একবার এক গায়িকার গান শুনে ভক্তরা এমন লাফিয়েছিলেন, ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছিল! জানেন কি সেই ঘটনা

গান থেকেই হয়ে গেল ভূমিকম্প। গায়িকার গান শুনে এমন লাফালেন ভক্তরা আশপাশের এলাকায় হল ভূমিকম্প। কবেকার ঘটনা, কোথায় ঘটেছিল, জেনে নিন। 

Feb 27, 2026, 14:36:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভূমিকম্প কি শুধুই প্রকৃতির হাতে? না, ভূমিকম্প ঘটাতে পারে মানুষও। শুনলে যে কেউ বলবেন, ‘হ্যাঁ, অনেক বিস্ফোরণ, যুদ্ধ বা দুর্ঘটনায় মাটিতে এমন কম্পন সৃষ্টি হয়েছে, যাকে ভূমিকম্পেরই সমতুল্য বলা যেতে পারে।’ কিন্তু এখানে তেমন কোনও ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা বলা হচ্ছে না। একবার এক সঙ্গীতশিল্পী ভূমিকম্প ঘটিয়েছিলেন। শুনে অবাক লাগলেও কথাটা সত্যি। তবে তিনি নন, বলা ভালো, ভূমিকম্প ঘটিয়েছিলেন তাঁর ভক্তরা। কীভাবে? শুনে নিন সেই ঘটনা।

একবার এক গায়িকার গান শুনে ভক্তরা এমন লাফিয়েছিলেন, ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছিল
একবার এক গায়িকার গান শুনে ভক্তরা এমন লাফিয়েছিলেন, ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছিল

সংগীতের সুর মানুষের মনকে কতটা আন্দোলিত করতে পারে, তা আমরা জানি। কিন্তু সেই সুর আর গানের তালে যখন হাজার হাজার ভক্ত একসঙ্গে নাচতে শুরু করেন, তখন তা যে কী করতে পারে, তা বিজ্ঞানেরও জানা ছিল না। মাটির গভীরেও সেই কম্পন ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা টেলর সুইফটের 'এরাস ট্যুর' (The Eras Tour)-এ এমনই ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর কনসার্টে ভক্তদের উন্মাদনা এতটাই প্রবল ছিল যে, বিজ্ঞানীরা এটিকে রীতিমতো 'ভূমিকম্প' (Earthquake) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

(আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ভূমিকম্পে কাঁপল পশ্চিমবঙ্গ! কলকাতা, ২৪ পরগনা-সহ অনেক জায়গায় কম্পন)

২০২৩ সালের জুলাই মাসে আমেরিকার সিয়াটলে (Seattle) টেলর সুইফ্টের 'এরাস ট্যুর'-এর একটি কনসার্ট চলাকালীন ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড (Lumen Field) স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার 'সুইফটি' (টেলর সুইফ্টের ভক্তদের নাম)। কনসার্ট চলাকালীন ভক্তদের নাচ ও লাফালাফির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সিজমোমিটার বা ভূমিকম্প মাপক যন্ত্রে কম্পন ধরা পড়ে।

'সুইফট কোয়াক' বা সুইফট ভূমিকম্প

বিজ্ঞানীরা এবং সিজমোলজিস্টরা (ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ) এই অদ্ভুত কম্পনটিকে মজার ছলে 'সুইফট কোয়াক' (Swift Quake) নাম দিয়েছেন। রেকর্ড অনুযায়ী, এই কনসার্টে ২.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছিল। এটি কোনো টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে হওয়া প্রাকৃতিক ভূমিকম্প ছিল না, বরং এটি ছিল 'মানব-সৃষ্ট ভূকম্পন' (Human-made seismicity)।

টেইলর সুইফটের গান থেকে হয়ে গেল ভূমিকম্প (AP)
টেইলর সুইফটের গান থেকে হয়ে গেল ভূমিকম্প (AP)

কীভাবে তৈরি হলো এই কম্পন?

সিজমোলজিস্ট জ্যাকি ক্যাপলান-অয়ারবাখ, যিনি পশ্চিম ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তিনি জানান যে এই কম্পনটি তৈরি হয়েছিল ভক্তদের ছন্দবদ্ধ নাচের কারণে।

  • সিঙ্ক্রোনাইজেশন: হাজার হাজার মানুষ যখন একই সাথে গানের তালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাফাচ্ছিলেন, তখন সেই সম্মিলিত শারীরিক শক্তির তরঙ্গ মাটির গভীর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
  • রেজোনেন্স (Resonance): স্টেডিয়ামের গঠন এবং ভক্তদের সম্মিলিত শক্তির সমন্বয় একটি 'রেজোনেন্স' বা অনুরণন তৈরি করেছিল, যা অনেকটা হালকা ভূমিকম্পের মতো অনুভূতি সৃষ্টি করে।

এর আগে ২০১৪ সালে সিয়াটল সিহকস বনাম নিউ অরলিন্স সেন্টস-এর একটি আমেরিকান ফুটবল ম্যাচে ভক্তদের উল্লাসে এমন কম্পন তৈরি হয়েছিল, যাকে বলা হতো 'বিস্ট কোয়াক'। টেলর সুইফ্টের কনসার্ট সেই রেকর্ডকেও টেক্কা দিয়েছে।

(আরও পড়ুন: বহুদিন পর ছোটপর্দায় দেখা যাবে পরমব্রতকে, কোন ধারাবাহিকে অভিনয় করবেন তিনি?)

টেলর সুইফ্টের জাদু ও ভক্তদের আবেগ

টেলর সুইফ্টের কনসার্ট কেবল একটি মিউজিক্যাল ইভেন্ট নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। তাঁর ভক্তরা বছরের পর বছর ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকেন। 'এরাস ট্যুর'-এর প্রতিটি গানে ভক্তদের যে আবেগ এবং শক্তি প্রকাশ পায়, তা অন্য যেকোনো কনসার্টের চেয়ে আলাদা। স্টেডিয়ামের বিশালতা, আলোকসজ্জা এবং টেলরের প্রতিটি পারফরম্যান্স দর্শকদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যে, তারা আর নিজেদের স্থির রাখতে পারেন না। আর যখন প্রায় ৭০,০০০ মানুষ একসঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচেন, তখন পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে তা কম্পন তৈরি করবেই।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব

অনেকের মনে হতে পারে, এতে স্টেডিয়ামের কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? উত্তর হলো—না। আধুনিক স্টেডিয়ামগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তারা এই ধরনের কম্পন সহ্য করতে পারে। তবে এই ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি বড় গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ যখন আবেগপ্রবণ হয়ে একইসাথে কোনো কাজ করে, তখন তা প্রকৃতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে পরিষ্কার।

(আরও পড়ুন: 'খুব বেশি সাহসী…', বর্তমান সময়ের ছবিতে অহেতুক অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখানো প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সলমনের নায়িকা ভাগ্যশ্রী)

টেলর সুইফ্টের কনসার্টের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংগীতের শক্তি কতটা অসীম। এটি কেবল আমাদের মনকে স্পর্শ করে না, বরং শারীরিকভাবেও আমাদের একীভূত করে তোলে। সিয়াটলের সেই রাতটি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে—যখল সুরের তালে মাটি কেঁপে উঠেছিল।