‘ওকে বুঝিয়েছি…’! সারোগেসির মাধ্যমে বাবা হন, ছেলে লক্ষ্য কি মায়ের কথা জানতে চায়? কী জানালেন জিতেন্দ্র-পুত্র তুষার কাপুর

তুষার কাপুর যখন বিয়ে না করেই সন্তান নেন, তখন অবাক হয়েছিল অনেকেই। সারোগেসি-র মাধ্যমে বাবা হওয়ার আগে, নিজের পরিবারের থেকে সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি, এক সাক্ষাৎকারে জানালেন জিতেন্দ্র-পুত্র। 

Published on: Feb 14, 2026 10:00 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বহু তারকাই বিয়ে না করেই বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে করণ জোহর, তুষার কাপুরদের। তুষার যখন সারোগেসির মাধ্যমে পিতৃত্বের ঘোষণা করেন, তখন হতবাক হয়েছিলেন অনেকেই। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র-পুত্র জানালেন যে, বাড়ি লোককে জানাননি তিনি সারোগেসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে।

ছেলে লক্ষ্য-র সঙ্গে তুষার কাপুর।
ছেলে লক্ষ্য-র সঙ্গে তুষার কাপুর।

এক সাক্ষাৎকারে তুষার জানান, 'আমি একটু ওল্ড স্কুল, অনেকটা আমার বাবার মতো, তবে কখনো কখনো একেবারে আলাদা। আমেরিকায় পাঁচ বছর থাকার পর আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে শিখেছি। আমি বিবাহিতও নই। আমার একটি ছেলে আছে এবং আমি সিঙ্গেল ফাদার। আমার বাবা কিন্তু সেরকম ছিলেন না মোটেও। তিনি বিয়েতে, পরিবারে বিশ্বাস করেন।'

তুষার আরও জানান যে, তিনি যখন বাবা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, থকন তাঁর বয়স ৪০। বেশ ম্যাচিওর। তাই কোনো সমস্যাই হয়নি। তুষার আরও জানান যে, ‘আমি বিয়েতে বিশ্বাস করি, কিন্তু তা আমার জন্য না। তবে আমি বাবা হতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে কিছু ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ ছিল। আমি কারও সঙ্গে দেখা করেছি, তথ্য পেয়েছি, ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং জিনিসগুলি ঘটেছিল। এটা পরিকল্পিত ছিল না, শুধু ঘটেছে। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতাম এবং আমার আস্থা কাজ করেছে।’

বাবা-মাকে না জিজ্ঞেস করেই সিঙ্গেল ফাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তুষার কাপুর। বাবা জিতেন্দ্র জানতেন না এই ব্যাপারে। ‘আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে আসলে কোনো কিছু নিয়েই সেরকম চাপ ছিল না। তাই তাদের জিজ্ঞাসা করার কথাও ভাবিনি কখনো। আমার বয়স তখন ৩৯, একদিন তিরুপতি যাওয়ার পথে বিমানে দেখা হয় প্রকাশ ঝা-এর সঙ্গে। আমরা বন্ধু ছিলাম না, কিন্তু আমরা একে অপরকে চিনতাম। ফেরার পথে, আমাদের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল এবং আমরা কারপুল করেছিলাম। পথে তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন, 'আপনি না হয় বিয়ে করবেন না, কিন্তু সিঙ্গেল ফাদার হওয়ার কথা ভাবছেন না কেন'!’

আর প্রকাশ ঝা-এর কাছ থেকে আসা এই প্রস্তাব মনে ধরে যায় তুষারের। জিতেন্দ্র-পুত্র জানান, ‘এরপর আমি ডাক্তারদের ফোন করি। তারা আমাকে পরামর্শ দিয়েছে। আমরা একবারে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম এবং তারপরে আমি বাবা হয়ে গেলাম। আমাদের সংস্কৃতিতে, একটি পরিবার শুরু করা শুভ বলে মনে করা হয়, আপনি এটি কীভাবে করেন তা নির্বিশেষে, দত্তক নিয়েছেন, বিবাহিত হন বা একক পিতামাতা হন। রক্ষণশীল ভারতীয় হিসেবে আমরা সবকিছু মেনে নিই।’

ছেলে লক্ষ্য কি কখনও তার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছিল? এ প্রসঙ্গে তুষার বলেন, ‘আমি লক্ষ্যকে বলেছি যে সব ধরনের পরিবার আছে। কখনও বাবা-মা আলাদা হয়ে যান, কখনও বাবা বা মা মারা যান, কখনও তারা বিভিন্ন শহরে থাকেন এবং কখনও বাচ্চাদের দত্তক নেওয়া হয়। বয়স অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছি। ও জানে যে, ওর পরিবার আলাদা তবে পরিবারের বাকিদের মতোই বৈধ।’