২০২৩ সালে মাকে হারান অপরাজিতা আঢ্য। এমনিতেই কেরিয়ারে যতটা ফোকসড অভিনেত্রী, ততটাই পরিবার অন্তপ্রাণ। সঙ্গে পুজো-অর্চণা তো আছেই। জানেন কি, জন্মের সময় একেবারে যমে-মানুষে টানাটানি চলেছিল অভিনেত্রীকে নিয়ে। প্রায় ৩ মাস ছিলেন হাসপাতালে সদ্যোজাত অপরাজিতা।
অপরাজিতা আঢ্য।
এক সাক্ষাৎকারে সময়কার কথা বলতে গিয়ে গলা ভারী হয়ে ওঠে অপরাজিতার। মাসখানেক ‘নোয়া’-র আড্ডায় অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মা যখন ইমার্জেন্সি দিয়ে ঢুকছে, মা দেখে একটা, মাংসপিণ্ড মায়ের শরীর দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর সেটাই আমি।’
‘তারপরে সাড়ে তিন মাস আমি হাসপাতালেই ভর্তি ছিলাম। যেহেতু বাঁচার কোনো আশা ছিল না। কিন্তু বাবা বলে মেডিকেল কলেজ সেই সময় খুব যত্ন নিয়েছিল আমার। সেই জন্যই আমি বেঁচে গিয়েছি। আর ওই কারণেই আমার নাম অপরাজিতা।’, আরও বলেন অপরাজিত। ‘তারপরে সাড়ে তিন মাস আমি হাসপাতালেই ভর্তি ছিলাম। যেহেতু বাঁচার কোনো আশা ছিল না। কিন্তু বাবা বলে মেডিকেল কলেজ সেই সময় খুব যত্ন নিয়েছিল আমার। সেই জন্যই আমি বেঁচে গিয়েছি। আর ওই কারণেই আমার নাম অপরাজিতা।’, আরও বলেন অপরাজিত।
ছোটবেলা কেটেছে দারিদ্রের মধ্যে। মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই আসলে অভিনয়ের জগতে পা রাখেন তিনি। এদিন অপরাজিতাকে বলতে শোনা যায়, ‘দারিদ্র্য হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের। আমাদেরও তাই ছিল। তারই মধ্যে মা চেষ্টা করতেন, আমি যেন শিল্পী হই। কারণ এমএ ফাইনাল পরীক্ষার আগে, সবাইকে যখন প্রিন্সিপাল জিজ্ঞাসা করে, কে কী হতে চাও, আমার মায়ের বক্তব্য ছিল, আমি সুন্দর করে সংসার করতে চাই। যেটা মায়ের হয়নি। মা বাধ্য হয়েছিলেন স্কুলে পড়াতে।’ তবে মায়ের সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেলেও, পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ করেই দেখিয়েছেন অপরাজিতা।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান অতনু হাজরাকে বিয়ে করেছিলেন। মাত্র ১ মাসের আলাপেই বিয়ে। দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের ২৭ বছর পার করে ফেলেছেন দুজনে। কঠিন সময়ে পরস্পরকে আগলে থেকেছেন। নিজেদের সন্তান নেই। তবে আছে পালিত কন্যা গার্গী। গর্ভে ধারণ না করলেও, মা-বাবাকে ভগবানের আসনে রাখেন গার্গী। আর অভিনেত্রীও মেয়ে অন্ত প্রাণ। ছোট পর্দা হোত বা সিনেমা-সিরিজ, অপরাজিতা সবেতেই ১০০।
News/Entertainment/Aprajita Adhya: ‘মা দেখে ১টা মাংসপিণ্ড বেরিয়ে আসল…’! প্রসবের পর যমে-মানুষে টানাটানি, এই কারণে নাম হয় অপরাজিতা