Dharmendra: হেমাকে বিয়ে করেও একসঙ্গে থাকেননি ধর্মেন্দ্র! দ্বিতীয় পক্ষের ২ মেয়ে এষা-অহনার জন্মের সময় যদিও করেন বড় কাণ্ড
প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও প্রথম পক্ষের চার সন্তানকে ছেড়ে কখনোই হেমা মালিনির সঙ্গে থাকেননি ধর্মেন্দ্র। তবে হেমা বহুবার জানিয়েছেন, ভালোবাসায় কোনো ত্রুটি রাখেননি ধর্মেন্দ্র। বরং সব ভালো-মন্দয় আগলে রেখেছিলেন।
চলতি মাসে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাঁর চলে যাওয়ার পর পরিবারের ফাঁটল স্পষ্ট। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই, হেমা মালিনিকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। শোনা যায়, ধর্ম পালটে মুসলিম হয়ে নিকাহ করেছিলেন। যদিও এই নিয়ে কোনোদিনই কেউ মুখ খোলেননি। এমনকী, মারা যাওয়ার পর হিন্দু রীতি মেনেই শেষকৃত্য হয় ধর্মেন্দ্রর। কিন্তু সেখানেও হেমা ও তাঁর দুই মেয়ে এষা ও অহনার মধ্যে ‘জড়তা’ স্পষ্ট! এমনকী, দেওল পরিবার ধর্মেন্দ্রর জন্য যে প্রার্থনাসভার আয়োজন করেছিলেন, সেখানে ডাক পাননি হেমা ও তাঁর মেয়েরা। হেমা বরং আলাদা করে ওই একইদিনে, একই সময়ে একটি পুজোর আয়োজন করেছিলেন।

আসলে প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর ও প্রথম পক্ষের চার সন্তানকে ছেড়ে কখনোই হেমা মালিনির সঙ্গে থাকেননি ধর্মেন্দ্র। মাঝেমধ্যে এসে থাকলেও, পাকাপাকি থাকতেন পৈত্রিক বাস ভিটেতে। যেখানে কোনোদিন পা রাখাও হয়নি হেমার। এমনকী, শেষবয়সেও লোনাভালা-র ফার্মহাউজে প্রকাশের সঙ্গেই থাকতেন ধর্মেন্দ্র। যদিও হেমার দাবি, একসঙ্গে না থাকলেও কোনোদিন ধর্মেন্দ্র অযত্ন করেনি হেমার। ভালোবাসায় ভরিয়ে রেখেছিলেন ২য় স্ত্রীকেও।
এমনকী, হেমা যখন দুই মেয়ে এষা ও অহনার জন্ম দেন, তখন একটা গোটা হাসপাতাল বুক করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, শান্তিতে যাতে সন্তান প্রসব করতে পারেন বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’। সদ্যোজাতদেরও যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কপিল শর্মা শো-তে এসে এই খবরে সিলমোহর দিয়েছিলেন হেমা মালিনি নিজেই।
হেমার বান্ধবী নীতু কোহলি জিনা ইসি কা নাম হ্যায় শো-তে বলেছিলেন, এশা দেওলের জন্মের সময় ধর্মেন্দ্র নীরবে নার্সিং হোমের ১০০টি ঘর বুকিং করেছিলে। যাতে হেমা এবং তাদের অনাগত সন্তানের জন্য সম্পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য। এমনকী, গর্ভাবস্থার খবরও গোপন রেখেছিলেন।
ধর্মেন্দ্র ও হেমার প্রেম শুরু হয়েছিল 'তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান' (১৯৭০) ছবির সেটে, যেখানে তারা প্রথমবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। দুজনে একে-অপরকে ভালোবেসে ফেলেন গভীরভাবে। এমনকী, চার সন্তানের বাবা, বিবাহিত ধর্মেন্দ্রকে পরিবারের অমতে গিয়েও বিয়ে করেছিলেন হেমা মালিনি। এত গভীর ছিল তাঁর ভালোবাসা। যা শেষদিন পর্যন্ত একইভাবে অটুট ছিল।
স্বামীর মৃত্যুর তিন দিন পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হৃদয়গ্রাহী পোস্ট শেয়ার করে নেন হেমা। লেখেন, ‘ধরমজি, আমার সবকিছু ছিলেন। একজন প্রেমিক স্বামী, আমাদের দুই মেয়ে এষা ও অহনার আদুরে বাবা, বন্ধু, দার্শনিক, পথপ্রদর্শক, আমার 'ভরসার মানুষ'। ভালো-মন্দ সব সময়েই তিনি আমার পাশে থেকেছেন। কবি, সব প্রয়োজনে আমার 'ভরসার মানুষ' – সত্যি বলতে, তিনি আমার সব কিছু ছিলেন! এবং ভালো-মন্দ সব সময়েই তিনি আমার পাশে থেকেছেন।’
হেমা আরও লেখেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি বর্ণনার অতীত, এবং এই শূন্যতা আমার জীবনের বাকি সময় জুড়ে থাকবে…’












