ধুরন্ধর সিনেমায় দেখা যাওয়া উজাইর বালোচ কে? করাচির এই গ্যাংস্টার শত্রুর কাটা মাথা নিয়ে খেলত ফুটবল
ধুরন্ধর ছবি মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ছবির প্রশংসা করেছেন। ছবিতে পাকিস্তানি আন্ডারওয়ার্ল্ড গ্যাংস্টার উজাইর বালোচের চরিত্র দর্শক মনে ছাপ ফেলেছে। জেনে নিন করাচির এই ভয়ঙ্কর গ্যাংস্টারের সম্পর্কে-
রণবীর সিং অভিনীত 'ধুরন্ধর' মুক্তি পেয়েছে। বরাবরই দেশপ্রেম নিয়ে সিনেমা নিয়ে আলাদা আগ্রহ থাকে দর্শকদের মধ্যে। এবারেও মুক্তি পাওয়ার পর থেকে দর্শকদের কাছ থেকে বেশ প্রশংসা পাচ্ছে ‘ধুরন্ধর’। সঙ্গে কিছু চরিত্রেও নিয়েও নেটপাড়ায় হচ্ছে আলোচনা। এক হল রেহমান ডাকাতের, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। আরেকটি যে চরিত্র চর্চায়, সেটি হল উজাইর বালোচ হিসেবে ড্যানিশ প্যান্ডোর। দু'জনেই ছিল পাকিস্তানি আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ঙ্কর নাম। তাদের গল্পই দেখানো হয়েছে ছবিতে।
কে উইজার বালোচ?
শোনা যায় যে, উজাইর তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে অপরাধের জগতে প্রবেশ করেছিল। যে নিজের শত্রুকে হত্য়া করত, এবং সেই শত্রুর কাটা মাথা দিয়ে ফুটবল খেলত।
করাচির লিয়ারিতে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছিল উজাইর জান বালোচ। তিনি ফয়েজ মুহাম্মদের ছেলে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন উজেইর। ২০০৩ সালে হত্যা করা হয় তার বাবাকে। ল্যারির মাদক মাফিয়া হাজী লালুর ছেলে আরশাদ পাপ্পু এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। এরপর বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে খুরতুতো ভাই রহমানের ডাকাত দলে যোগ দেয় সে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, উজাইর ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় ১৯৮ জনকে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে দেশের গোপন তথ্য ইরানের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়ার। এই লোকটি প্রায় ১৫০ জন আধাসামরিক কর্মীকে হত্যা করে। ১১জন ব্যবসায়ীকে মারে, যারা তাকে মুক্তিপণের অর্থ দেয়নি। উজাইরের কাছে ছিল প্রচুর অস্ত্র-সহ রকেট লঞ্চার।
শোনা যায় যে, উজাইর এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে, সে স্থানীয় থানার ইনচার্জ, এসপি এবং ডিএসপিদের নিয়োগ ও অপসারণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেত। সিন্ধু নদে চাষ হওয়া মাছের কালো ব্যবসা করত। এছাড়াও তোলাবাজি থেকে আয় করেছিল মোটা অর্থ। অনেক প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, উজায়ের তার প্রতিপক্ষকে মেরে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে তাদের কাটা মাথা নিয়ে ফুটবল খেলত। শুধু তাই নয়, নিজের বাবার খুনি আরশাদ পাপ্পু ও তার ভাই ইয়াসিরকে হত্যা করে, তাদের লাশ নিয়ে কুচকাওয়াজ করে, তাদের কাটা মাথা নিয়েও খেলেছিল ফুটবল।
২০২০ সালে, উজাইরকে করাচির একটি কারাগারে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পরে নিজের কানেকশন খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল এই কুখ্যাত অপরাধী।
News/Entertainment/ধুরন্ধর সিনেমায় দেখা যাওয়া উজাইর বালোচ কে? করাচির এই গ্যাংস্টার শত্রুর কাটা মাথা নিয়ে খেলত ফুটবল