অস্কার ২০২৬-এর 'ইন মেমোরিয়াম' বিভাগে নামোল্লেখই হল না ধর্মেন্দ্রর! চটল ভারতীয়রা
৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের 'ইন মেমোরিয়াম' বিভাগও দেখা গিয়েছে, যা গত বছর প্রয়াত অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযুক্তিবিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিল। একইসঙ্গে সেখানে ভারতের প্রবীণ অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের নাম উল্লেখই করা হয়নি।
লস অ্যাঞ্জেলসে রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। বিশ্বের অন্যতম বড় এই চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে হলিউডের পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের তারকারাও উপস্থিত ছিলেন। রেড কার্পেটে তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি বছরের সেরা সিনেমা ও শিল্পীদের সম্মান জানানোও ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ।
তবে এবারের অস্কারের একটি অংশ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছিল ‘ইন মেমোরিয়াম’ সেগমেন্ট—যেখানে গত এক বছরে প্রয়াত অভিনেতা, পরিচালক ও চলচ্চিত্র জগতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা হয়। কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত।
‘ইন মেমোরিয়াম’-এ নাম এল না ধর্মেন্দ্রর
আয়োজকদের দাবি, অস্কারের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় ‘ইন মেমোরিয়াম’ সেগমেন্ট রাখা হয়েছিল। শুধু একটি ভিডিও মন্টাজ নয়, বরং বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অংশও যোগ করা হয়।
এই সেগমেন্টে চলচ্চিত্র নির্মাতা রব রেইনারকে সম্মান জানান তাঁর বিখ্যাত ছবি হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি-র তারকা বিলি ক্রিস্টাল। আবার কিংবদন্তি অভিনেতা রবার্ট রেডফোর্ডকে স্মরণ করেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ড, যিনি দ্য ওয়ে উই ওয়্যার ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও অভিনেত্রী র্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামস নিজের দেশের কিংবদন্তি শিল্পী ডায়ান কিটনকে শ্রদ্ধা জানান।
গত কয়েক বছরে অস্কার নিজেদের আরও আন্তর্জাতিক করে তুলতে চেয়েছে। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা ‘ইন মেমোরিয়াম’ সেগমেন্টেও দেখা গিয়েছে। অতীতে ভারতের তারকা ইরফান খান এবং ঋষি কাপুরকে সেখানে স্মরণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্রর নাম না থাকায় অনেকেই তাই অবাক হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এক্স (টুইটার)-সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতীয় সিনেমাপ্রেমীরা।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অস্কার গত বছরে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের তালিকা দেখাল, কিন্তু ধর্মেন্দ্রের মতো একজন কিংবদন্তি অভিনেতার কথা উল্লেখই করল না। তাহলে এটাকে কীভাবে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক পুরস্কার বলা যায়?’
আরেকজনের মন্তব্য, ‘যদি ভারতীয় আইকনদের স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তাহলে অস্কারকে গ্লোবাল বলার দাবি কতটা সত্যি?’
অস্কার কি সত্যিই ‘গ্লোবাল’?
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে—অস্কার কি সত্যিই বিশ্ব সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করে, নাকি এখনও মূলত হলিউডকেন্দ্রিক? ধর্মেন্দ্রের ভক্তদের মতে, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অবদান এতটাই বড় যে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর নাম স্মরণ করা উচিত ছিল।
অন্যদিকে কিছু চলচ্চিত্র বিশ্লেষক মনে করছেন, ‘ইন মেমোরিয়াম’ তালিকা সাধারণত সেইসব শিল্পীদের নিয়ে তৈরি হয় যাঁদের হলিউড বা একাডেমির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল। তাই সব আন্তর্জাতিক তারকার নাম সেখানে না-ও থাকতে পারে।
তবে বিতর্ক যাই হোক, একটি বিষয় পরিস্কার—ভারতীয় দর্শকদের কাছে ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি যুগের প্রতীক। আর সেই কারণেই অস্কারের মঞ্চে তাঁর নামোল্লেখ না হওয়া অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper











