পরিবারের সামনেই অকথ্য নির্যাতন! আজারবাইজানে অপহৃত ২ ভারতীয়, ‘ডাঙ্কি রুট’ বিভীষিকার অবসান
মুম্বই-ভিত্তিক এক এজেন্টের মাধ্যমে অবৈধ ডঙ্কি রুটে যাওয়ার কথা ঠিক হয়। ধ্রুব প্যাটেল প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ও দীপিকা প্যাটেল ১৫ লক্ষ টাকা দেন সেই এজেন্টকে।
নতুন জীবনের আশায় ‘ডাঙ্কি রুট’ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন বুনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা দুঃস্বপ্নে বদলে গেল দুই ভারতীয়র জীবন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ‘শর্টকাট’ খুঁজতে গিয়ে আজারবাইজানে অপহরণ ও নির্মম অত্যাচারের শিকার হলেন গুজরাটের আনন্দ জেলার এক যুবক এবং এক যুবতী। তবে এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বাধীন বিদেশ মন্ত্রকের ‘অপারেশন মহিসাগর’-এর সাফল্যে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তাঁরা।

জানা গেছে, যাত্রার কয়েক দিনের মধ্যেই দুই ভারতীয় অপহরণ করা হয় আজারবাইজানে। চলে ভয়াবহ নির্যাতন, এমনকী অঙ্গ পাচার করার হুমকিও পান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত ভারতের দূতাবাস ও বিদেশ মন্ত্রকের উদ্যোগে দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
‘ডঙ্কি রুট’
গুজরাটের আনন্দ জেলার কানথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ধ্রুব প্যাটেল (২২) ও দীপিকা প্যাটেল (২২) গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। মুম্বই-ভিত্তিক এক এজেন্টের মাধ্যমে অবৈধ ডঙ্কি রুটে যাওয়ার কথা ঠিক হয়। ধ্রুব প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ও দীপিকা ১৫ লক্ষ টাকা দেন সেই এজেন্টকে। আনন্দ থেকে ভাদোদরা, সেখান থেকে দিল্লি-সব ঠিকঠাকই চলছিল। ১ ফেব্রুয়ারি দু’জন আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে পৌঁছন। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপদ। এজেন্ট পাওন আরও টাকা দাবি করে। যুবক-যুবতী রাজি না হতেই তাদের ফোন বন্ধ করে দিতে বলা হয়। পরদিন সকালে দু’জনকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন বাড়ির বেসমেন্টে। সেখানেই তাঁদের আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
ভিডিও কলে লাইভ টর্চার
অপহৃতদের পরিবার জানায়, ধ্রুব প্যাটেলকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরিবারের সামনে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে সেই নির্যাতন দেখানো হয়। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ না পেলে তাঁদের কিডনি বিক্রি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিল ওই এজেন্ট। শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের তরফে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা-তার অর্ধেক ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবুও আরও টাকা দাবি করতে থাকে দুষ্কৃতীরা। অসহায় পরিবার তখনই বিষয়টি জানান আনন্দের সাংসদ মিতেশ প্যাটেলকে।
সরকারের কূটনৈতিক জয়
আনন্দ-এর সাংসদ মিতেশ প্যাটেল বিষয়টি জানালে তৎপর হয় বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে সরাসরি জানানো হয়। এরপর ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ‘অপারেশন মহিসাগর’ নামে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত দু’জনকে খুঁজে বার করা হয় এবং উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতীয় দূতাবাসে। বর্তমানে তাঁরা বাকুতে ভারতীয় দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। দেশে ফেরানোর জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংসদ মিতেশ প্যাটেল বলেন, 'এ ধরনের শর্টকাট কোনও দিনই নিরাপদ নয়। যুবকদের অনুরোধ, এ পথে পা দেবেন না।' অন্যদিকে, ধ্রুবর বাবা সাংসদ ও কেন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, 'তাঁর সন্তানরা নতুন জীবন পেল।'
E-Paper











