Fake Call Centre looting Americans: সস্তায় OTT পাবেন- টোপ দিয়ে আমেরিকার থেকে লুটেছিল কোটি-কোটি টাকা, নয়ডায় ধৃত ৬
ওটিটি সাবস্ক্রিপশনের নামে আমেরিকান নাগরিকদের কোটি-কোটি টাকা লুট! নয়ডায় পুলিশি অভিযানে ফাঁস হল জালিয়াত চক্রের পর্দা। কীভাবে চলত এই ভুয়ো কল সেন্টার? ছয়জনকে গ্রেফতার করে উদ্ধার করা হল ল্যাপটপ ও দামী গ্যাজেট।
নয়ডায় সাইবার অপরাধীদের চক্র ফাঁস হয়ে গেল। সম্প্রতি নয়ডা পুলিশ সেক্টর-৬৩ এলাকায় একটি বড়সড় জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। সস্তায় নামী ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন রিনিউ করার নামে আমেরিকান থেকে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সেক্টর-৬৩-এর একটি অফিস থেকে এই ভুয়ো কল সেন্টারটি চালাচ্ছিল। তারা মূলত বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করত। তালিকার উপর থেকে ছিলেন বিশেষ করে আমেরিকানরা। এই প্রতারকরা নিজেদের নামী ওটিটি প্ল্যাটফর্মের (যেমন নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম বা ডিজনি প্লাস) প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিত।

কীভাবে প্রতারণা চালানো হত?
১) পপ-আপ মেসেজ: পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে অভিযুক্তরা আমেরিকানদের কম্পিউটারে বা মোবাইলে ভুয়ো পপ-আপ মেসেজ পাঠাত, যেখানে লেখা থাকত যে তাদের ওটিটি সাবস্ক্রিপশন শেষ হয়ে গিয়েছে বা অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গিয়েছে।
২) টোল-ফ্রি নম্বর: ওই পপ-আপে একটি টোল-ফ্রি নম্বর দেওয়া থাকত। যখনই কোনও ইউজার ভয় পেয়ে বা কৌতূহলী হয়ে ওই নম্বরে ফোন করতেন, তখনই জালিয়াতির আসল খেলা শুরু হত।
৩) রিমোট অ্যাক্সেস: প্রতারকরা গ্রাহকদের ডিভাইসের রিমোট অ্যাক্সেস নিত এবং বলত যে সাবস্ক্রিপশন ঠিক করার জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।
৪) গিফট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট: অভিযোগ উঠেছে, সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার এড়াতে ধৃতরা গ্রাহকদের অ্যাপল গিফট কার্ড বা গুগল প্লে গিফট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে বাধ্য করত। পরে সেই কার্ডের কোড রিডিম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত।
পুলিশি অভিযান ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রী
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নয়ডার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং সাইবার সেলের একটি টিম যৌথভাবে ওই অফিসে অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ১৬টি অত্যাধুনিক কম্পিউটার সেট, আমেরিকান নাগরিকদের তথ্য থাকা একাধিক মোবাইল ফোন, ভুয়ো সিম কার্ড ও ইন্টারনেট রাউটার, প্রতারণার জন্য তৈরি করা বিশেষ স্ক্রিপ্টের মতো সামগ্রী।
আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রটি প্রতিদিন হাজার-হাজার ডলার লেনদেন করত। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র থেকে জানা গিয়েছে যে, গত কয়েক মাসে তারা কয়েক কোটি টাকার প্রতারণা করেছে। টাকাগুলো সরাসরি ভারতীয় অ্যাকাউন্টে না এনে তারা বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ভারতে নিয়ে আসত। এই চক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনও আন্তর্জাতিক গ্যাং যুক্ত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নয়ডার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন যে, এই ধরনের কল সেন্টারগুলো ভারতের ভাবমূর্তি বিদেশের মাটিতে নষ্ট করছে। এই চক্রের মূল পান্ডা এখনও পলাতক রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইটি অ্যাক্ট এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











