প্রত্যাঘাতে শিক্ষা হয়নি! Op সিঁদুরের পরও পাকিস্তানে সক্রিয় ৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড, BSF বলছে...
অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে কমপক্ষে ৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড সক্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে শিয়ালকোট এবং জাফরওয়ালের কাছে ১২টি রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাত হিসাবে গত ৭ মে পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। 'অপারেশন সিঁদুর' নামে ওই অভিযানের দগদগে ক্ষত এখনও শুকোয়নি। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের প্রত্যাঘাত হিসাবে ভারতীয় সেনা ফের 'অপারেশন সিঁদুর ২.০' অভিযান চালাতে পারে বলে ভয়ে ঠকঠকিয়ে কাঁপছে পাক সেনা। এই আবহে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে থাকা ৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড তড়িঘড়ি স্থানান্তরিত করেছে। এমনটাই তথ্য দিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।

বিএসএফের তরফে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে কমপক্ষে ৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড সক্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে শিয়ালকোট এবং জাফরওয়ালের কাছে ১২টি রয়েছে। তবে জম্মু অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদীদের 'শূন্য' সীমান্ত অনুপ্রবেশ বজায় রাখার জন্য বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। জম্মুতে বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএসএফের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বিক্রম কুনওয়ার বলেন, ৭-১০ মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষ-অপারেশন সিঁদুরের সময় বাহিনী সীমান্ত জুড়ে অনেক সন্ত্রাসী লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করেছে। তাঁর কথায়, 'অপারেশন সিঁদুরের সময় বিএসএফ সীমান্তে অনেক সন্ত্রাসী লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করার পর, পাকিস্তান সরকার এই সব জঙ্গি ঠাকানাগুলি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু পুরনো অভ্যাসগুলি এখনও শেষ হয়ে যায়নি।' তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত (আইবি) এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) জুড়ে বর্তমানে ৭২টি সন্ত্রাসী লঞ্চপ্যাড সক্রিয় রয়েছে।
৭২টি জঙ্গি লঞ্চপ্যাড সক্রিয়
ডিআইজি বিক্রম কুনওয়ার জানিয়েছেন, 'আজ পর্যন্ত, শিয়ালকোট ও জাফরওয়ালের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ১২টি লঞ্চপ্যাড কাজ করছে, যেগুলি ঠিক সীমান্তে আর নেই। অন্যদিকে ৬০টি লঞ্চপ্যাড নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে গভীরতা এলাকায় কাজ করছে। এই ক্যাম্পগুলি স্থায়ীভাবে এক জায়গায় থাকে না। এই লঞ্চপ্যাডগুলি সাধারণত ভারতে হামলা করার সময় সক্রিয় থাকে। তাদের দুই বা তিনটির বেশি দলে রাখা হয় না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় কোনও প্রশিক্ষণ শিবির নেই।' তিনি আরও বলেন, আগে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর লঞ্চপ্যাডগুলি ছিল নিচু এলাকায়। আর লস্কর-ই-তৈবার সদস্যরা উপরের দিকে সক্রিয় থাকত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর সেগুলি সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। এখন আর আলাদা ভাবে জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য শিবির নেই। দুই গোষ্ঠীর জঙ্গিরা একসঙ্গে ওই লঞ্চপ্যাডগুলিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
'অপারেশন সিঁদুর ২.০'
'অপারেশন সিঁদুর ২.০'-এর ক্ষেত্রে বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জম্মু সীমান্তের বিএসএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল শশাঙ্ক আনন্দ বলেন, সরকার যদি সীমান্তে অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বাহিনী তার নির্দেশ মেনে চলতে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, 'আমরা যদি ১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ, অথবা অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে কথা বলি, তাহলে বিএসএফের সকল ধরনের যুদ্ধের ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা সে প্রচলিত বা হাইব্রিড যুদ্ধই হোক না কেন। যদি আমরা সুযোগ পাই, আমরা মে মাসে যা করেছি তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম। সরকার যে নীতিই সিদ্ধান্ত করুক না কেন, বিএসএফ এতে তার ভূমিকা পালন করবে।' আইজি আরও বলেন যে, অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানি রেঞ্জার্স যারা তাদের পোস্ট ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তারা আবার ফিরে এসেছে। তিনি জানান, 'পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে, পোস্টগুলিতে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। বিএসএফের দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। কিছু জায়গায়, তারা তাদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। তবে তাদের সমস্ত কার্যকলাপ আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।'












