ফ্লাইং কিস-চোখ মারাও যৌন হেনস্থা! ৬২ বছরের প্রৌঢ়কে দোষী সাব্যস্ত করল চণ্ডীগড় আদালত

৩১ আগস্ট, ২০২১ সালে এক মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

Published on: Feb 05, 2026 4:07 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চণ্ডীগড় জেলা আদালত এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে বলেছে, ফ্লাইং কিস করা এবং চোখ মারা একজন মহিলারা ব্যক্তিগত মর্যাদার পরিপন্থী এবং যৌন হেনস্থার সমান। মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট শচীন যাদব ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪এ (যৌন হয়রানি) এবং ৫০৯ (একজন মহিলার শালীনতা অবমাননা)-এর অধীনে ৬২ বছর বয়সি অশোক কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ২৮ জানুয়ারি এই রায় দিয়েছে আদালত।

ফ্লাইং কিস-চোখ মারাও যৌন হেনস্থা!
ফ্লাইং কিস-চোখ মারাও যৌন হেনস্থা!

জানা গেছে, ২০১১ সালে অভিযুক্ত অশোক কুমার অভিযোগকারিণীকে অশালীন মন্তব্য, ইঙ্গিত করেন, ফ্লাইং কিস ছোঁড়েন ও চোখ মারেন। এছাড়াও তিনি অভিযোগকারিণীর দিকে টাকা ছুড়ে মারেন। এই মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ, অশালীন অঙ্গভঙ্গি, যেমন ফ্লাইং কিস এবং চোখ মারা সরাসরি মহিলার সম্মানকে আঘাত করে এবং এটি অ-মৌখিক যৌন হয়রানির অন্তর্ভুক্ত। চণ্ডীগড় জেলা আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুধু দোষীই সাব্যস্ত করেনি, তাঁকে ২০,০০০ টাকার প্রবেশন বন্ড জমা দেওয়ার এবং অভিযোগকারিণীকে ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রসিকিউশনের মতে, ৩১ আগস্ট, ২০২১ সালে এক মহিলার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। ওই মহিলা অভিযোগ করেন যে, ২৮ আগস্ট, ২০২১ সালের সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি তার বাড়ির বাইরে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কাছে আসে এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করেন। অভিযোগ বলা হয়েছে যে ওই ব্যক্তি মহিলার দিকে ৫০০ টাকার একটি নোট ছুঁড়ে মারে এবং তাঁর শ্লীলতাহানি করেন।

অভিযোগকারী জানিয়েছেন যে তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, অশোক কুমার সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং আগেও তাঁর সঙ্গে একই রকম ব্যবহার করেছেন। লোক জানাজানির লজ্জার ভয়ে তিনি প্রথমে ঘটনাটি কেউকে জানাননি। পরে তিনি অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই মহিলা তার বাড়ির সামনে ঝাড়ু দিয়ে আবর্জনা জমানোয় বচসা শুরু হয়। আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, অভিযুক্ত যখন তার নাতির জন্য আইসক্রিম কিনছিলেন তখন ৫০০ টাকার নোটটি দুর্ঘটনাক্রমে তার পকেট থেকে পড়ে যায় এবং নেশা করার কোনও প্রমাণ পাওয়ায়। তবে অভিযুক্তের দাবি খারিজ করে আদালত উল্লেখ করেছে যে, অভিযোগকারী জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলেছিলেন যে, অশোক কুমার তার দিকে টাকা ছুঁড়েছেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ফ্লাইং কিস এবং চোখ মারা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মদ্যপান করেছিলেন।