রক্তাক্ত পাকিস্তানের রাজপথ! ইসলামাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ধর্মীয়স্থানে, মৃত্যুমিছিল

বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাকিস্তানের বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল।

Published on: Feb 06, 2026 4:00 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। শুক্রবার সে দেশের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে জোরালো বিস্ফোরণের কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। সূত্রের খবর, দক্ষিণ-পূর্ব ইসলামাবাদের একটি ইমামবাড়ায় জুম্মার নমাজের সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, তড়িঘড়ি গোটা শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন।

রক্তাক্ত পাকিস্তানের রাজপথ! (REUTERS)
রক্তাক্ত পাকিস্তানের রাজপথ! (REUTERS)

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত তেরলাই ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানা গেছে। এটি সংখ্যালঘু শিয়া ধর্মীয় উপাসনালয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এদিন জুম্মার নমাজ শেষ হওয়ার ঠিক পরেই যখন ধর্মপ্রাণ মানুষ ইমামবাড়া থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনই ওই বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হামলাকারী শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং রক্তে ভেসে যায় চত্বর। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফটক ধ্বংস হয় এবং আশপাশের একাধিক ভবনের জানলার কাচ ভেঙে পড়ে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনও চূড়ান্তভাবে বিস্ফোরণের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে, বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাকিস্তানের বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ -এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে জরুরি পরিষেবা চালু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, একাধিক আহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিকিৎসক এবং নার্স নিয়োগ করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাস্থলের এক ভিডিওতে গুরুতর আহত অনেককে দেখা গেলেও, হতাহতের কোনও খবর এখনও নিশ্চিত করেনি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাক নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে ফরেনসিক দল। এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। রাজধানী শহরের সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে আত্মঘাতী হামলা হল, তা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পর ইসলামাবাদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথগুলোতে নাকা তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।