'খারাপভাবে স্পর্শ...,' বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে কোরিয়ান পর্যটককে যৌন হেনস্থা, হুলুস্থূল...

সিসিটিভি ফুটেজ ও কিম-এর বয়ানের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত অভিযুক্ত আফান আহমেদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

Published on: Jan 22, 2026 8:24 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের সিলিকন সিটি হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দক্ষিণ কোরিয়ান পর্যটককে যৌন হেনস্থার অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। টিকিট ও লাগেজ পরীক্ষা করার অজুহাতে বিমানবন্দরের এক কর্মী ওই পর্যটককে হেনস্থা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে কোরিয়ান পর্যটককে যৌন হেনস্থা (সৌজন্যে টুইটার)
বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে কোরিয়ান পর্যটককে যৌন হেনস্থা (সৌজন্যে টুইটার)

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ জানুয়ারি। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিমান ধরার জন্য বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছোন ওই মহিলা। ওই সময়েই সিকিউরিটি চেকিংয়ের নামে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরেই এফআইআর দায়ের করেন মহিলা। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশকে ওই পর্যটক জানান, ১৯ জানুয়ারি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার পর আফান আহমেদ নামে এক কর্মী তাঁর কাছে আসেন। অভিযুক্ত দাবি করেন, কিম-এর চেক-ইন ব্যাগেজে যান্ত্রিক বিপ-শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং তা বিশদ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এফআইআর-এর তথ্য অনুযায়ী, আহমেদ ওই মহিলাকে ভয় দেখান যে কাউন্টারে ব্যাগেজ চেক করতে গেলে তাঁর ফ্লাইটে দেরি হয়ে যেতে পারে। এর বদলে তিনি একটি ‘পার্সোনাল চেক’ বা ব্যক্তিগত তল্লাশির প্রস্তাব দেন। অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিম-কে বিমানবন্দরের একটি ওয়াশরুমে নিয়ে যান। সেখানে তল্লাশির নাম করে তিনি ওই মহিলাকে খারাপ ভাবে স্পর্শ করেন। অসৎ উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকবার তাঁকে স্পর্শ করা হয় বলে পুলিশকে জানান মহিলা। কিম বাধা দিলে এবং বিরক্তি প্রকাশ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ‘ওকে, থ্যাংক ইউ’ বলে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ হয়ে গেলেও কিম তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানান। সিসিটিভি ফুটেজ ও কিম-এর বয়ানের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত অভিযুক্ত আফান আহমেদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্কতা জারি করেছে। যাত্রীরা যেন নিরাপদে থাকেন এবং এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। তবে এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার পরও ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন কিম সুং কিয়ং। তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে নারী নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।