SIR: তৃণমূলের 'সুপ্রিম' জয়! অ্যাডমিট কার্ড বৈধ-শুনানিতে BLA, আরও কী বলল কোর্ট?

জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Published on: Jan 19, 2026 5:31 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় জয় পেল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের থাকতে দিতে হবে, এমন দাবি শুরু থেকেই জানিয়ে এসেছে তৃণমূল। সোমবার সেই দাবিতেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, এবার থেকে শুনানির সময় বিএলএ-রা কেবল উপস্থিতই থাকতে পারবেন না, বরং ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন। আর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাব।' তবে এই রায়কে তৃণমূলের নৈতিক জয় হিসেবে মানতে নারাজ বিজেপি।

তৃণমূলের 'সুপ্রিম' জয়! (HT_PRINT)
তৃণমূলের 'সুপ্রিম' জয়! (HT_PRINT)

এসআইআর শুনানিতে বিএলএ

তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। আদালত জানিয়েছে, যে সব ভোটার শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের পক্ষ থেকে শুনানিতে সওয়াল করার জন্য কারও সাহায্য নিতে পারেন। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের, এমনকী বিএলএ-দেরও সাহায্য নিতে পারেন বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে। তবে এর জন্য ভোটারকে একটি স্বাক্ষর করা বা টিপসই দেওয়া ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা অনুমতিপত্র দিতে হবে। এই চিঠি থাকলে ভোটার নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে বিএলএ সওয়াল করতে পারবেন।

শীর্ষ আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল শিবিরে খুশির হাওয়া। আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'বিএলএ-দের প্রবেশ নিয়ে কমিশনের অনেক আপত্তি ছিল, কিন্তু কোর্ট স্পষ্ট করে দিল যে কোনও ভোটার চাইলেই অন্যের সাহায্য নিতে পারেন।' বিএলএ-দেরও সাহায্য নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল এই রায়কে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দাবি করলেও তা মানতে নারাজ বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, 'তৃণমূল গণতন্ত্রের কথা বলছে, অথচ আজও আমাদের ফর্ম-৭ ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। যেখানে গণতন্ত্রই নেই, সেখানে নৈতিক .০জয়ের প্রশ্ন ওঠে না।' বিজেপির দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ভোটের সার্থকতা নেই।

'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'

এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি শুনানির সময় কারও কাছ থেকে নথি জমা নেওয়া হলে, তার স্বীকৃতি হিসেবে রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কমিশনকে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার বা নির্দিষ্ট অফিস খুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ নথি জমা দিতে পারবেন এবং আপত্তি জানাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চালাতে রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী মোতায়েন করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, ওই কর্মীরা পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে বসে ভোটারদের বক্তব্য শুনবেন। পাশাপাশি, প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যকে উপযুক্ত পুলিশি ও আইন-শৃঙ্খলার ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসতেই বারাসতের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি খুশি এবং আনন্দিত। এখানে আসার পথে খবর পেলাম সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের দাবি মান্যতা দিয়ে বলেছে 'তথ্যগত অসঙ্গতি'র তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আরও জানতে পেলাম যে আমরা যে দাবি বারবার করে করে এসেছি, শুনানির সময় যে ডকুমেন্ট ভোটাররা জমা দিচ্ছে, তার রশিদও দিতে হবে। বিজেপির এসআইআর-এর খেলা শেষ।'

মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড

এসআইআর শুনানি-পর্বে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বৈধ নয় বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত প্রশ্ন তোলেন, অন্য রাজ্যে যে নথি গ্রহণযোগ্য বাংলায় তা কেন গ্রহণযোগ্য নয়? ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নির্দিষ্ট ১৩টি নথির উল্লেখ করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছিল, তারমধ্যে ছিল না মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু এই নথি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য-এই যুক্তিতে নাগরিকত্বের জন্যও তা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। নানা স্তরে সেই আবেদন উঠেছিল। মনে করা হচ্ছিল, এই নথিটি গ্রাহ্য হবে। ফলে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন বিএলও। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে বহু মানুষ নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করেন। ঘটনার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এদিন শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিটকে এসআইআরে নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

আগামী দু’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সবমিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই লড়ে এদিন বড়সড় জয় ছিনিয়ে আনল তৃণমূল। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি চলছিল, তা নতুন মাত্রা পেল।