৩৬ বছর চাকরির পর মার্চেই অবসর! ‘সুনামি সুইং’ ভেঙে মৃত্যু পুলিশ কর্মীর, চাঞ্চল্যকর ভিডিও
হরিয়ানা পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সিংহল জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী, জগদীশ প্রসাদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হবে।
শনিবার ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড মেলায় ঘটেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আনন্দের জয়রাইড মুহূর্তে বদলে গিয়েছে দুঃস্বপ্নে। ‘সুনামি সুইং’ নামের একটি দোলনা আচমকা ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক হরিয়ানা পুলিশ ইন্সপেক্টরের। চলন্ত অবস্থায় 'সুনামি সুইং' যখন ভেঙে পড়ে, সেই সময় পুলিশ অফিসার জগদীশ প্রসাদ এবং দুই মহিলা কনস্টেবল রাইডের মধ্যে থাকা আতঙ্কিত মানুষদের সরাতে দৌড়ে যান। মাথায় আঘাত পান ওই পুলিশকর্মী, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

কে ছিলেন জগদীশ প্রসাদ?
উত্তরপ্রদেশের মথুরার বাসিন্দা ৫৭ বছরের জগদীশ প্রসাদ হারিয়ানা পুলিশের পালওয়াল এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ৩৬ বছরের চাকরি শেষে আগামী মার্চ মাসে অবসর নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। ১৯৮৯ সালে হরিয়ানা পুলিশে যোগ দেন জগদীশ। ২০১৯-২০ সালে হরিয়ানা সরকার তাঁকে মেডেল দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন। তিনি দায়বদ্ধতা, শৃঙ্খলা এবং কর্তব্যবোধের জন্য পরিচিত। জগদীশ প্রসাদের পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছেন। তাঁর ভাইদের মধ্যে প্রদীপ একজন শিক্ষক, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। সতীশ চন্দ্র একটি রাসায়নিক কারখানায় এবং চন্দ্রবাহন সিং ফারিদাবাদের একটি মোটর কোম্পানিতে কর্মরত।
হরিয়ানা পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সিংহল জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী, জগদীশ প্রসাদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য সুবিধাও দেওয়া হবে। পাশাপাশি শহিদ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলেও জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি এই দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। দুর্ঘটনার পরদিন ওই রাইডটি সরিয়ে অন্য একটি জয়রাইড বসানো হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় মোট ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের সকলকেই স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা স্থিতিশীল তবে এখনও চিকিৎসাধীন। ঠিক কী কারণে দোলনা ভেঙে পড়ল , তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দুর্ঘটনার ভিডিও
সুরজকুণ্ড মেলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আগে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা গেছে, 'সুনামি সুইং'টি বৃত্তাকারে ঘুরছে, তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা ছবি তুলছে এবং ভিডিও রেকর্ড করছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দোলনাটিতে প্রায় ২৬ জন আরোহী ছিলেন। হঠাৎ করেই ভারসাম্য হারিয়ে দোলনাটি হেলে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই চিৎকার চেঁচামেচিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা মেলায়। দোলনায় থাকা ৭ থেকে ৮ জন দর্শক ছিটকে পড়েন নিচে। সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন পালওয়াল জেলার কর্মরত পুলিশ ইন্সপেক্টর জগদীশ প্রসাদ। আহত ও আটকে পড়া দর্শকদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেই গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করে জানান, 'এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁর পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে পাশে রয়েছে।' তবে ওই মেলার মাঠে এই প্রথম দুর্ঘটনা ঘটল না। এর আগে, সেখানকার খাওয়াদাওয়ার জায়গাটিতে একটি ফটক ভেঙে পড়ে। সেই ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সুরজকুণ্ড মেলা আসলে হস্তশিল্প মেলা। ৩১ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়েছে। চলবে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
E-Paper











