কার্গিলের ধাঁচ! কিশতোয়ারে জইশের গোপন বাঙ্কারের হদিশ, তাজ্জব নিরাপত্তা বাহিনী
এই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই চার জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারে দুই জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা এবং আদিলের খোঁজে চলা তল্লাশিতে মিলল বড় সাফল্য। পাহাড়ি জঙ্গলের ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় এক গোপন বাঙ্কারের হদিশ পেল নিরাপত্তা বাহিনী। বাঙ্কারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে সাধারণ চোখে তা ধরা পড়া অসম্ভব। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ম্যাগি এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাস থেকে কিশ্তওয়ারে ‘অপারেশন ট্র্যাশ-১’ শুরু করেছে সেনা। মঙ্গলবার অভিযানের তৃতীয় দিনে পাহাড়ের গভীরে গাছের আড়ালে লুকোনো একটি বাঙ্কারের সন্ধান পায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা আধিকারিকদের মতে, বাঙ্কারটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে নির্মিত। এমনভাবে এর কাঠামো তৈরি করা হয়েছে যাতে উল্টো দিক থেকে আসা হামলা বা বুলেটের আঘাত অনায়াসেই প্রতিহত করা যায়। বাঙ্কারটি থেকে তল্লাশি চালিয়ে যা পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্তম্ভিত জওয়ানরা। ওই গোপন ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ রসদ উদ্ধার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে পান ৫০ প্যাকেট ম্যাগি, প্রচুর কাঁচা সবজি, চাল, রান্নার যাবতীয় সরঞ্জাম এবং শুকনো কাঠ। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, মজুত করা রসদের পরিমাণ দেখে স্পষ্ট যে জঙ্গিরা সেখানে দীর্ঘকাল থাকার পরিকল্পনা করেছিল। কয়েক মাসের খাবার সেখানে আগাম মজুত রাখা হয়েছিল।
কার্গিল-স্টাইলের এই বাঙ্কারটি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জইশ কমান্ডার সইফুল্লা এবং তার ডেপুটি আদিল ব্যবহার করত বলে মনে করা হচ্ছে। এত দুর্গম উচ্চতায় স্থানীয় সাহায্য ছাড়া বাঙ্কার তৈরি করা বা খাবার পৌঁছে দেওয়া অসম্ভব বলে মনে করছে সেনা। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই চার জন স্থানীয় বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। গত তিন দিন ধরে কিশ্তওয়ারে জোরদার জঙ্গিদমন অভিযান চলছে। রবিবার রাতে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় সাত জন জওয়ান জখম হয়েছিলেন, যার মধ্যে পরে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই সইফুল্লা ও আদিল নামে দুই জঙ্গির খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে সেনা। গোটা এলাকা বর্তমানে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার এই অভিযান তৃতীয় দিনে পড়ল, তবে এখনও পর্যন্ত দুই জঙ্গির কোনও সন্ধান মেলেনি। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের নিকেশ না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।
E-Paper











