Donald Trump's New Sanctions: ভারতের জাহাজের দিকে অভিযোগের আঙুল আমেরিকার, নয়া নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের

মার্কিন বিদেশ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশকে অস্থিতিশীল করতে এবং নিজের দেশে দমন-পীড়ন করতে তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে ইরান।

Published on: Feb 07, 2026 7:48 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। সেই বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্তের পরেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রফতানি আরও সীমিত করাই এসব নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। তেহরান অবশ্য এই পদক্ষেপে হতবাক। এদিকে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশকে অস্থিতিশীল করতে এবং নিজের দেশে দমন-পীড়ন করতে তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে ইরান।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র। (REUTERS)
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র। (REUTERS)

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ইরান থেকে অবৈধ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বোচ্চ চাপ দেওয়ার নীতিতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৪টি জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানি তেল বহনের অভিযোগ করেছে। এর মধ্যে তুরস্ক, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি কোম্পানি এবং ২ জন ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এই জাহাজ এবং সংস্থাগুলির সাথে জড়িত যে কোনও লেনদেন এখন মার্কিন আওতাধীন হিসাবে বিবেচিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ইরানের ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ওয়াশিংটনের নীতি ছিল বিশ্বের কোনও দেশই ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে না। ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে আমেরিকা। আর এবারের এই নিষেধাজ্ঞা এল মার্কিন-ইরান বৈঠকের পরে পরেই। অবশ্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে সিনিয়র মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। তবে আলোচনা সত্ত্বেও চাপের নীতি শিথিল করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয় মাস্কাটে। এই বৈঠক অবশ্য এর আগে ভেস্তে গিয়েছিল। বৈঠকের আগে আমেরিকার দাবি ছিল 'সব ইস্যুতে' আলোচনা করতে হবে। ইরান বলেছিল, শুধুমাত্র পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থানের চেষ্টা ঘটে গিয়েছে কয়েকদিন আগেই। সেই জনরোষ ঠেকাতে বলপ্রয়োগ করেছে ইরান। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। এই আবহে প্রতিবাদীদের ওপর ইরানি অত্যাচার নিয়েও আলোচনা করতে চেয়েছিল আমেরিকা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। তবে সেই সব বিষয়ে ইরান আলোচা করতে চায়নি বলে ওমানের এই বৈঠক ভেস্তে যাচ্ছিল। তবে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্রগুলি ওয়াশিংটনকে বৈঠকের জন্যে রাজি করিয়েছিল। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, একদিকে তারা কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে ঝোঁকানোর চেষ্টা করছে।