‘ওখানকার বিক্ষোভ...,' দিল্লি বিমানবন্দরে স্বস্তির ছবি, উৎকণ্ঠার মধ্যে ইরান থেকে দেশে ফিরলেন ভারতীয়রা
সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, ইরানে আটকে থাকা বাকি ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখছে নয়া দিল্লি।
ইরানে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং বিদ্যুৎ-জল সংকটের জেরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জনবিক্ষোভের মাঝে ভারত সরকার সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রবার গভীর রাতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরলেন একাধিক ভারতীয় নাগরিক। প্রিয়জনদের ফিরে পেয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত পরিবারগুলির মধ্যে দেখা গেল দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর এক আবেগঘন স্বস্তি।
দেশে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ইরানে থাকা ভারতীয় ছাত্র, পর্যটক ও কর্মীরা। তেহরান থেকে ফেরা ভারতীয়দের বর্ণনায় উঠে এল ওপার পারস্যের অস্থির চালচিত্র। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, কোথাও রাস্তায় চলাচলে বাধা আর তারই মাঝে ছিল টানা উদ্বেগ। এএনআই-কে এক প্রত্যাগত ভারতীয় বলেন, ‘ওখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ভারত সরকার আমাদের সহযোগিতা করেছে। দূতাবাস শুরু থেকেই দ্রুত ইরান ছাড়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে...মোদীজি আছে তো সব সম্ভব।' দিল্লি বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল গেটের বাইরে শুক্রবার রাতভর ভিড় জমিয়েছিলেন উদ্বিগ্ন আত্মীয়রা। দীর্ঘ তিন-চার দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফোন পেতেই তাঁরা ছুটে এসেছিলেন বিমানবন্দরে। আরও এক ব্যক্তি জানান, 'গত এক-দু’সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। আমরা এক মাস সেখানে ছিলাম। শেষের দিকে বাইরে বেরোলেই বিক্ষোভকারীরা গাড়ির সামনে এসে ঝামেলা করত। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। এমনকী দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।’
ইরান থেকে ফেরা জম্মু ও কাশ্মীরের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ওখানকার বিক্ষোভ অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। ভারত সরকার জরুরি উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে এনেছে।’ সেই সঙ্গে তিনি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, ইরানে আটকে থাকা বাকি ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখছে নয়া দিল্লি। আগামী কয়েক দিনে আরও বেশ কিছু ভারতীয়র ফেরার কথা রয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে তেহরানে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে। এর পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে চলা জলের অভাব এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনরোষকে আরও উসকে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, গত দু’সপ্তাহে হিংসাত্মক দমন-পীড়নে প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান সরকারের মধ্যে পাল্টা হুমকি যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কাও তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সুর কিছুটা নরম হওয়ায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় উত্তেজনা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
E-Paper











