জীবিত স্প্যানিশ 'KID!' ইসরোর পিএসএলভি ব্যর্থতার মধ্যেই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প

১২ জানুয়ারি উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ ছিল ২০২৬ সালে ইসরোর প্রথম মিশন।

Published on: Jan 14, 2026 11:48 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের ব্যর্থতার আবহেই উঠে এল এক অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প। স্পেনের মহাকাশ স্টার্টআপ অরবিটাল প্যারাডাইম জানিয়েছে, তাদের ২৫ কেজি ওজনের পরীক্ষামূলক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ‘কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর’ (কিড) উৎক্ষেপণের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কার্যত সফলভাবে কাজ করেছে। পিএসএলভি-সি৬২ থেকে আলাদা হওয়ার পর ক্যাপসুলটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পৃথিবীর দিকে গুরুত্বপূর্ণ টেলিমেট্রি ডেটা পাঠাতে সক্ষম হয়, যা বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

পিএসএলভি ব্যর্থতার মধ্যেই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প (PTI)
পিএসএলভি ব্যর্থতার মধ্যেই অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প (PTI)

ফুটবলের আকারের এই প্রোটোটাইপটি গত ১২ জানুয়ারি ইসোর পিএসএলভি রকেটে সহযাত্রী হিসেবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তৃতীয় ধাপে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মূল পে-লোডগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রকেটের চতুর্থ ধাপ থেকে সফলভাবে আলাদা হতে পেরেছে কিড ক্যাপসুল। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে অরবিটাল প্যারাডাইম জানায়, ‘আমাদের কিড ক্যাপসুল সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়েই পিএসএলভি-সি৬২ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, চালু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছে। আমরা এখন এর গতিপথ বিশ্লেষণ করছি। অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তথ্যও পাওয়া গেছে। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।’ তবে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউনের উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে রি-এন্ট্রি পরীক্ষার জন্য তৈরি এই ক্যাপসুলটি এমন তাপ ও চাপ সহ্য করেছে যা সাধারণত পরীক্ষামূলক হার্ডওয়্যার ধ্বংস করে দেয়।

কেস্ট্রেল ক্যাপসুলের সাফল্য বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের জন্য এক বড় মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফরাসি সংস্থা রাইড-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ক্যাপসুল ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রি-এন্ট্রি প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট সার্ভিসিং এবং ডি-অরবিটিং মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইসরোর পিএসএলভি রকেটের ৬৪তম অভিযানে বিরল এই ব্যর্থতার মাঝেই কিড-এর সাফল্য ভারতীয় রাইডশেয়ার উৎক্ষেপণের উপর আন্তর্জাতিক নির্ভরতা এবং ছোট স্যাটেলাইট নির্মাতাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন করে তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রি-এন্ট্রির সময় সংগৃহীত টেলিমেট্রি ডেটা ভবিষ্যতের গবেষণায় অমূল্য হয়ে উঠতে পারে। অরবিটাল প্যারাডাইম শীঘ্রই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে। এই রিপোর্ট কেস্ট্রেল প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ব্যর্থতা ও ইসরোর প্রতিক্রিয়া

১২ জানুয়ারি উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ ছিল ২০২৬ সালে ইসরোর প্রথম মিশন। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সকাল ১০.১৭ মিনিটে উৎক্ষেপিত এই রকেটে ছিল ইসরোর ইওএস-এন১ (অণ্বেষা) নজরদারি উপগ্রহ, যা ডিআরডিও-র কৌশলগত প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি ছিল আরও ১৫টি সহ-যাত্রী উপগ্রহ, যার মধ্যে আয়ুলস্যাট, মরিশাস ও নেপালের আন্তর্জাতিক পেলোডও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তৃতীয় ধাপের শেষ বার্নে অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ায় রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং সব ক’টি উপগ্রহ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, তৃতীয় ধাপে ‘ডেভিয়েশন’ ধরা পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডেটার বিশ্লেষণ চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনটিকে ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও পিএসএলভি-র মতো নির্ভরযোগ্য বাহনে এমন বিপর্যয় বিরল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেস্ট্রেল ক্যাপসুলের কার্যকারিতা বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।