কানাডায় সবচেয়ে বড় সোনা চুরি! পুলিশের জালে আরও এক অভিযুক্ত, শাগরেদ ভারতে…

কিং-ম্যাকলিন বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে রয়েছেন।

Published on: Jan 13, 2026 11:44 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সোনা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পিল রিজিওনাল পুলিশ। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ৪৩ বছর বয়সি আরসালান চৌধুরীকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর 'নির্দিষ্ট কোনও ঠিকানা নেই।'

কানাডায় সবচেয়ে বড় সোনা চুরি! (সৌজন্যে টুইটার)
কানাডায় সবচেয়ে বড় সোনা চুরি! (সৌজন্যে টুইটার)

পুলিশ সূত্রে খবর, আরসালান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫ হাজার ডলারের বেশি চুরি, অপরাধের মাধ্যমে সম্পত্তি দখল এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে ‘প্রজেক্ট ২৪কে’ নামের বিশেষ তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সোনার বার চুরির ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

কানাডায় সোনা চুরি

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল। সেদিন সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে টরেন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট এসে পৌঁছয়, যাতে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম .৯৯৯৯ বিশুদ্ধ সোনা-প্রায় ৬ হাজার ৬০০টি সোনার বার এবং ২৫ লক্ষ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ছিল। এই বিপুল পরিমাণ সোনা নামিয়ে বিমানবন্দরের একটি পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এই ঘটনার পর পুলিশ আন্তঃসীমান্ত তদন্ত শুরু করে এবং চুরির সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ জনকে শনাক্ত করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অথবা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্র্যাম্পটনের ৩৩ বছর বয়সি সিমরান প্রীত পানেসার। তিনি এয়ার কানাডার প্রাক্তন কর্মী এবং বর্তমানে ভারতে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের অভিযোগ, পানেসার এয়ারলাইনের সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করে কার্গো চালান শনাক্ত ও অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। গত বছর চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে কানাডা জুড়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

অন্যান্য অভিযুক্তরা

অন্যদিকে, আরেক অভিযুক্ত ব্র্যাম্পটনের বাসিন্দা অর্চিত গ্রোভারকে ২০২৪ সালের মে মাসে ভারত থেকে ফেরার সময় টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও এখনও পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন এয়ার কানাডার প্রাক্তন কর্মী ৫৪ বছর বয়সি পারমপাল সিধু এবং অন্টারিওর বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি অমিত জালোটা। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ব্র্যাম্পটনের ৩৬ বছর বয়সি প্রসাথ প্যারামালিঙ্গম, টরেন্টোর ৩৭ বছর বয়সি আলি রাজা, ব্র্যাম্পটনের ৪৩ বছর বয়সি আম্মাদ চৌধুরী এবং ২৭ বছর বয়সি ডুরান্টে কিং-ম্যাকলিন। কিং-ম্যাকলিন বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে পিল রিজিওনাল পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইপ্পা বলেন, 'এই তদন্ত জটিল, খুব ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধ মোকাবিলায় পিল রিজিওনাল পুলিশের নিষ্ঠা এবং দক্ষতার প্রমাণ দেয়। প্রজেক্ট ২৪কে হল একটি স্পষ্ট উদাহরণ যে কীভাবে আমাদের অফিসাররা, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করে, জটিল অপরাধমূলক কার্যকলাপকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং অভিযুক্তদের জেরা করতে পারে। এটা জেনে রাখুন: আপনি যেখানেই দৌড়াতে বা লুকানোর চেষ্টা করুন না কেন, আমরা আপনাকে খুঁজে বের করব।'