'আমি আপনাকে ২ টাকা...,' অসমের মুখ্যমন্ত্রী নয়া নিদানে 'বৈষম্য' তোপ ওয়াইসির
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে।
অসমে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নিশানায় পড়েছেন ‘মিয়াঁ’ সম্প্রদায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন তিনি অসমের মসনদে থাকবেন, ততদিন মিয়াঁদের দুর্ভোগ কাটবে না। এমনকী তাঁদের অসম ছেড়ে চলে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এবার এক নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ বা মিমের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেন, এ দেশের সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে।

নিজামাবাদে এক জনসভায় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘তিনি (অসমের মুখ্যমন্ত্রী) বলেন, যদি কোনও অটোচালক মিয়াঁ মুসলিম হয়, তাহলে তাকে কম ভাড়া দিতে হবে। যদি ভাড়া হয় পাঁচ টাকা, তাহলে তাকে দিতে হবে চার টাকা। হিমন্ত বিশ্বশর্মা, আমি আপনাকে দু'টাকা দেব, আপনি কী নেবেন? আমি জানি আপনি এ দু'টাকা ভিক্ষা চাইছেন। আমি কী আপনাকে এই টাকা পাঠাব?’ তিনি আরও বলেন, ভারতের সংবিধান সবাইকে সমান অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অসমের মুখ্যমন্ত্রী ‘মিয়াঁ মুসলিমদের’ প্রতি বৈষম্য করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।ওয়াইসির কথায়, 'আপনি প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যায় হন না কেন বৈষম্য করা উচিত নয়। কিন্তু তিনি বলছেন 'আমরা মিয়াঁদের সঙ্গে এটি করব, ভোট দিতে বাংলাদেশে যাও।' আপনি ঠিক কী করতে চান?'
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
সম্প্রতি নির্বাচনী জনসভা থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মিয়াঁরা আসলে বাংলাদেশের বাসিন্দা। খুলনা অঞ্চল থেকে তাঁরা অসমে অনুপ্রবেশ করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি জানি মিয়াঁরা আমাদের ভোট দেবে না। ওদের উচিত বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া।' তাঁর সাফ কথা, সরকার যদি মিয়াঁদের জন্য সমস্যা তৈরি করে, তবেই তারা অসম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে। তিনি সাফ জানান, যতদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী আছেন, ততদিন মিয়াঁদের ‘কপালে দুঃখ’ রয়েছে। তাঁর মতে, মিয়াঁরা অবৈধ বাংলাদেশি, তাই এ দেশে কাজ করার কোনও আইনি অধিকার তাদের নেই। এমনকী সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর অদ্ভুত পরামর্শ, 'রিকশা চালক যদি মিয়াঁ হন, তবে ৫ টাকা ভাড়ার জায়গায় ৪ টাকা দিন।' তাঁর লক্ষ্য যে মিয়াঁদের আর্থিক ও মানসিকভাবে কোণঠাসা করা, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। ভোটের অঙ্ক কষেই যে হিমন্তের এই ‘মিয়াঁ-বিরোধী’ নীতি, তা রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
E-Paper











