মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! চলন্ত ট্রেনের উপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, কামরায় আগুন, মৃত্যুমিছিল...

ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। প্রথমেই ট্রেনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে দমকলবাহিনী।

Published on: Jan 14, 2026 1:43 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

থাইল্যান্ডে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। ব্যাংকক থেকে দেশের উত্তর-পূর্বে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনের উপর সেতু তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিশাল ক্রেন ভেঙে পড়ায় কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ৩০। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়াতেই এতগুলি প্রাণ গেল। এখনও জারি রয়েছে উদ্ধার কাজ। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! (REUTERS)
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! (REUTERS)

সূত্রের খবর, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ব্যাংকক থেকে ২৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাখন রাতচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলার বান থানন খোট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর–পূর্বে উবন রাতচাথানিতে যাচ্ছিল ট্রেনটি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হাই স্পিড রেল প্রজেক্টের কাজ চলছিল। ক্রেনে করে রেললাইনের নির্মাণসামগ্রী সরানো হচ্ছিল, সেই সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। পাশ থেকে ট্রেনটি যখন যাচ্ছিল, তখনই ক্রেন ছিঁড়ে ট্রেনের কামরার উপরে পড়ে। একের পর এক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। কয়েকটি কামরায় আগুনও ধরে যায়। যদিও দ্রুত সেই আগুন নেভানো হয়। উদ্ধার কাজ জারি রয়েছে। কামরার ভিতরে বহু যাত্রী আটকে রয়েছেন বলে খবর। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান স্থানীয় পুলিশ–প্রশাসনের।

ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। প্রথমেই ট্রেনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে দমকলবাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শুরু হয় উদ্ধার কাজ। জানা গিয়েছে ওই ট্রেনে অন্তত ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলি থেকে যাত্রীদের বার করে আনার কাজ এখনও চলছে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কাজ চলছে। তবে কার গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে জানিয়েছেন সেখানকার পরিবহণমন্ত্রী। থাই সরকার দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এক্স-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আজ ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯:০৫ মিনিটে, নাখোন রাতচাসিমার শিখিউতে একটি উচ্চ-গতির রেল সেতুর জন্য ব্যবহৃত একটি নির্মাণ ক্রেন চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের উপর পড়ে যায়। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে আগুন ধরে যায়। ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হন, অনেকে বগির ভেতরে আটকা পড়েন। ঘটনাস্থলে একাধিক উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।'

প্রথমে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১২ দাবি করলেও নাখোন রাচাসিমা প্রদেশের স্থানীয় পুলিশ প্রধান থাচাপোন চিনাওয়ং জানিয়েছেন, ২২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ৩০ জনের বেশি আহত। এদিকে, এই দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডে দ্রুত রেল নির্মাণ প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৪৮ হাজার কোটি ডলারের উচ্চগতির রেলপ্রকল্পের কাজ চলছে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব প্রদেশে। সেই প্রকল্পের কাজে ক্রেনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। আর তা ভেঙে পড়াতেই ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা।