পরপর গুলি, বিস্ফোরণ! পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর দফরে হাড়হিমকাণ্ড,মৃত্যুমিছিল
পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী ‘ফ্রন্টিয়ার কোর’-এর সদর দফতর পেশোয়ারের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এর ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে পাক সেনার ক্যান্টনমেন্ট।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্যারামিলিটারি ফোর্সের সদর দফতরে হামলা বন্দুকবাজের। একই সঙ্গে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা সোমবার সকালে এই হামলার ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সকালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) সদর দফতরে হামলা হামলা চালায় দুই বন্দুকবাজ। আর একজন আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পাকিস্তানের ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি হল একটি আধা-সামরিক বাহিনী যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে। পেশাওয়ারের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার (সিসিপিও) ড. মিয়াঁ সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন, প্রথমে তিনজন জঙ্গি সদর দফতরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। একজন আত্মঘাতী হামলাকারী সদর দফতরের গেটেই নিজেকে উড়িয়ে দেয়। অপর দুজন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে এফসি কর্মীরা তাদের গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় এফসি-র তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। এফসি পূর্বে ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি নামে পরিচিত ছিল। গত জুলাই মাসে সরকারিভাবে নাম পরিবর্তন করে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি রাখা হয়।
জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী ‘ফ্রন্টিয়ার কোর’-এর সদর দফতর পেশোয়ারের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এর ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে পাক সেনার ক্যান্টনমেন্ট। তাই ওই এলাকায় এই ধরনের ঘটনায় চিন্তিত পাক পুলিশ-প্রশাসনও। স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ওই এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে জঙ্গি হামলা, না অন্য কিছু, তা এখনও স্পষ্ট করেনি পাক পুলিশ কিংবা সেনা। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁরা পর পর দু’বার বিস্ফোরণের শব্দ পেয়েছেন। পাক পুলিশের এক কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘প্রথম আত্মঘাতী বোমারু আধা সামরিক বাহিনীর মূল ফটকে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটায়। অপর জন সেই সুযোগে দপ্তরের ভিতর ঢুকে পড়ে।’ ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পরেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে পাক সেনা এবং পুলিশ। খুব সাবধানে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেও কেপির বান্নু জেলায় এফসি সদর দফতরে একটি বড় হামলার চেষ্টা করা হয়, যেখানে ছয়জন সেনা এবং পাঁচজন জঙ্গি নিহত হয়।












