Bangladesh Army on Election: আমেরিকা নাকি চাইছে জামাতকে! এরই মাঝে বাংলাদেশ সেনাকে বড় নির্দেশ ওয়াকারের
নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীকে বড় নির্দেশ দিলেন বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আমেরিকার সঙ্গে জামাতের 'সম্পর্ক' নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে গুঞ্জন বেড়েছে। বিএনপি-র মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সেনাবাহিনীকে বড় নির্দেশ দিলেন বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বাংলাদেশের রাস্তায় এখনও মোতায়েন আছে সেনা। রংপুর ও রাজশাহীতে সেই সব মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন ওয়াকার। সেখানেই তিনি নিরপেক্ষ থাকার জন্য সেনা সদস্যদের নির্দেশ দেন। এই সফরকালে রংপুর সার্কিট হাউজে উচ্চ পর্যায়ের সেনাকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে বাংলাদেশ সেনার অভ্যন্তরে জামাত যোগ থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের তরফে।
সম্প্রতি মার্কিন সাংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে জামাতের আঁতাতের কথা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই আবহে বিএনপি আঁতকে উঠেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা বিএনপি বিগত বছরগুলিতে জামাতের সঙ্গে বহুবার হাত মিলিয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে জামাতকে 'স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি' হিসেবে আখ্য দিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে বিএনপি। ইউনুস জমানায় যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেই সময় বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে। এরই মাঝে বরগুনা-২ আসনে জামাতে ইসলামির প্রার্থী সুলতান আহমেদও সম্প্রতি জনসভায় দাবি করেন, আমেরিকাও বাংলাদেশে জামাতকে চাইছে। যার পরে জামাত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আরও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন থাকছে।
উল্লেখ্য, জামাতের সঙ্গে আমেরিকার 'বোঝাপড়া' নিয়ে একটি অডিয়ো বার্তা ফাঁস হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় এক জামাতপন্থী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল মার্কিন কূটনীতিকের। সেই কথোপকথনের সময় নাকি মার্কিন দূত 'আশা' ব্যক্ত করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেকোনও সময়ের সবচেয়ে ভালো করবে জামাত। এমনকী তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, 'আমরা (আমেরিকা) চাই তারা (জামাত) আমাদের বন্ধু হোক'। এই বৈঠকটি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হয়েছিল। সেখান থেকেই এই কথোপকথনের রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের পাশাপাশি আলজাজিরাও এই রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে।
এদিকে সেই সাংবাদিককে মার্কিন কূটনীতি বলেছিলেন, জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকে মিডিয়ায় নিয়ে আসতে আগ্রহী তারা। এদিকে কথোপকথনে মার্কিন কূটনীতিক আরও জানান, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হাসিনার বিচার গ্রহণযোগ্য না হলেও এর রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এদিকে বিএনপির ওপর জামাত এবং ইউনুস সরকার যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতেও মার্কিনিরা আপ্লুত বলে জানান সেই মার্কিন দূত। এদিকে জামাতের সঙ্গে 'বন্ধুত্ব' করতে চাইলেও মার্কিন দূত স্পষ্ট করে দেন, যদি তাদের কথা মতো জামাত না চলে, সেই ক্ষেত্রে পরদিনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যত বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে আমেরিকা। এদিকে বাংলাদেশকে কোনও ভাবে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেও বারণ করেন সেই কূটনীতিক। এদিকে বাংলাদেশে জামাত ক্ষমতায় এলে শরিয়া আইন কার্যকর করা হবে বলে 'বিশ্বাস করেন না' বলে জানান সেই কূটনীতিক।
E-Paper











