ট্রাম্পের মন গলানোর চেষ্টা! ১৪ বোয়িং বিমান কিনে শুল্ক কমাতে চায় বাংলাদেশ?

সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

Published on: Feb 09, 2026 2:03 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কয়েক দিন আগেই ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে করার বার্তাও দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর থেকেই বিপাকে বাংলাদেশ। এই আবহে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার পরিকল্পনা করছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার এই চুক্তিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন গলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক কী ভারতের চেয়েও কমে যাবে?

ট্রাম্পের মন গলানোর চেষ্টা! (সৌজন্যে টুইটার)
ট্রাম্পের মন গলানোর চেষ্টা! (সৌজন্যে টুইটার)

এই মুহূর্তে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ শুল্ক নেয়। সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বোয়িং কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেলে তা ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিষয়ে কোনও তরফেই কিছু জানানো হয়নি। তবে রবিবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন একটি সাংবাদিক বৈঠকে বোয়িং সংক্রান্ত চুক্তির কথা জানিয়েছেন। এয়ারবাস এবং বোয়িং উভয় সংস্থার সঙ্গেই বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সঙ্গে দর কষাকষি সফল হয়েছে। সে দেশের সরকারি বিমান সংস্থা বাংলাদেশের জন্য আপাতত ১৪টি বিমান কিনবে ঢাকা। এর জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। ১০ বছর ধরে এই টাকা দিতে পারবে বাংলাদেশ। বশির বলেন, ‘টাকা পুরোপুরি মেটাতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে। আমাদের সে ক্ষেত্রে বছরে দেড় থেকে দু’হাজার কোটি টাকা করে দিতে হবে বোয়িংকে।’

সূত্রের খবর, বোয়িংয়ের কাছ থেকে আটটি ৭৮৭-১০, দু’টি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭ ম্যাক্স৮ কিনবে বাংলাদেশের সংস্থা। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্কের পরিমাণ কমতে পারে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা মেটাতেই বিমান কেনার চুক্তি করছে বাংলাদেশ। গত ২ এপ্রিল বাংলাদেশের পণ্যের উপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। হয়নি চূড়ান্ত কোনও বাণিজ্য চুক্তি। ফলে শুল্কের পরিমাণ আরও কমানো যাবে বলে ঢাকা আশাবাদী। সূত্রের খবর, বোয়িং কেনার কথাবার্তা পাকা হয়ে গেলে সোমবারই বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সই করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার জন্য ঢাকা থেকে কয়েক জন আধিকারিক ওয়াশিংটনে পৌঁছে গিয়েছেন। বশির-সহ অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েক জন প্রতিনিধি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সইসাবুদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আগামী। তারপর শপথ নেবে নতুন সরকার। বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা পাকা করে নতুন সরকারের উপর থেকে চাপ কমাতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সম্প্রতি ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে কমিয়ে এনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা সফল হলে তাদের শুল্কের পরিমাণ ১৮ শতাংশের চেয়েও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বিনিময়ে বাংলাদেশ আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রাজি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের পোশাকের উপর রফতানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তবে সবটাই এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বশির এও জানিয়েছেন, প্রথমে ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার কথা হয়েছিল। পরে ১৪টিতে কথাবার্তা পাকা হয়েছে। আগামী দিনে প্রয়োজনে আরও বিমান কেনা হবে।