Bangladesh Latest Update: 'বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএস-এর পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা'

দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের জেলে আছেন চিন্ময় প্রভু। প্রাথমিক ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের পতাকার ওপরে নাকি গেরুয়া পতাকা উড়িয়েছিলেন চিন্ময় প্রভু। যদিও এই অভিযোগ ছিল মিথ্যা।

Published on: Jan 20, 2026 9:25 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলায় চার্জ গঠন করা হল চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে। এই আবহে এবার তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হবে বিচার। এই আবহে চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে নয়া শঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন তসলিমা নসরিন। তিনি দাবি করেন, চিন্ময় প্রভুকে খুন করা হতে পারে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের জেলে আছেন চিন্ময় প্রভু। প্রাথমিক ভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের পতাকার ওপরে নাকি গেরুয়া পতাকা উড়িয়েছিলেন চিন্ময় প্রভু। যদিও এই অভিযোগ ছিল মিথ্যা।

'বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএস-এর পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা', চিন্ময় প্রভু ইস্যুতে ইউনুস সরকারকে তোপ তসলিমার
'বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএস-এর পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা', চিন্ময় প্রভু ইস্যুতে ইউনুস সরকারকে তোপ তসলিমার

এই সবের মাঝে তসলিমা নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যে মামলা। তিনি নাকি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙিয়েছিলেন। আমরা তো জানি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএস-এর পতাকা তোলা বৈধ, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা। কিন্তু সেই গেরুয়া পতাকাও চিন্ময় তোলেননি। এক বছরের বেশি সময় এই হাস্যকর কারণে তিনি জেল খাটছেন। তাঁকে জামিন তো দেওয়াই হল না, তাঁকে আবারও জেলে পাঠানো হল আরও একটি মিথ্যে মামলা দিয়ে, আলিফ খুনের আসামি করে। আলিফ খুন হয়েছিল চিন্ময় যখন পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। পর পর মিথ্যে মামলা রুজু করে কেন একজন নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করছেন ইউনুস? চিন্ময়কে কেন ভয়? তিনি নির্যাতিত হিন্দুদের মনে সাহস দিয়েছিলেন বলে? তাঁর ডাকে লক্ষ হিন্দু পথে নামত বলে? তিনি মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতেন বলে?'

এরপর তসলিমা আরও লেখেন, 'জিহাদি সরকারের শাসন চলছে। হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে। নিরীহ হিন্দুদের মেরে ফেলা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এই মিছিলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন। তাঁকে বিনা অপরাধে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে। আমার ভয় হয়, কখন একদিন শুনব চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি তো মরবেন না, তাঁকে মেরে ফেলা হবে। পলিটিক্যাল মার্ডার তো বাংলাদেশের জেলগুলোয় অহরহই ঘটে।'

১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আদালতে চিন্ময় প্রভুকে পেশ করা হয়েছিল। আদালতের অন্দরে কালো ছাতা দিয়ে ঢেকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চিন্ময় প্রভুকে। তাঁকে ঘিরে ছিল বহু পুলিশ। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী জানিয়েছেন, এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যেসব ব্যক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের কারও বক্তব্যেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই খুনের ঘটনার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় প্রভু কোনওভাবেই এই মামলায় জড়িত নন এবং তাঁকে হেনস্থা করতেই এই মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর আইনজীবীর।

উল্লেখ্য, আলিফ খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে চিন্ময় দাসকে। মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ৩৯। তার মধ্যে জেলে আছেন ২২ জন। এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই। চিন্ময় প্রভুর অনুগামী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বহু হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঘটনার দিন চট্টগ্রাম আদালত ভবনের মূল ফটকের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল–সংলগ্ন বান্ডিল রোড সেবক কলোনি এলাকার একটি গলিতে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে। আদালতে ভাঙচুরের প্রতিবাদে নাকি বেশ কয়েকজন আইনজীবী সেদিন মিছিল করে বান্ডিল রোডে গিয়েছিলেন। সেই সময় সশস্ত্র লোকজন তাঁদের ধাওয়া করেছিল। তখন হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন সাইফুল। এরপরই তাঁর ওপর চড়াও হয় অনেকে। তবে চিন্ময় প্রভু নিজে সেই সময় ছিলেন প্রিজন ভ্যানে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছিল বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ। সেই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুও। সেই সমাবেশেই নাকি তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছিলেন। এই অভিযোগেই চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। যদিও পতাকা অবমাননার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙানো হয়েছিল। যদিও দুটি পতাকা পৃথক স্তম্ভে ছিল। এবং চিন্ময় প্রভু নিজে কোনও পতাকাই লাগাননি। বাংলাদেশে জাতীয় পতাকার ওপরে একই লাঠিতে আইএস-এর পতাকা লাগিয়ে বহু মিছিল করেছে কট্টরপন্থীরা। তবে তাদের নামে কোনও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে ৩১ অক্টোবর চিন্ময় দাস-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন বিএনপি নেতা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এরপর তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে জড়ো হয়েছিলেন চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাতে। সেই জনতার ওপর নির্বিচারে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এই সংঘর্ষে এক আইনজীবী খুন হন। সেই খুনের ঘটনায় আশেপাশের এলাকার বহু হিন্দু যুবককে নির্বিচারে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে কোনও আইনজীবী যাতে মামলা না লড়েন, তার জন্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় প্রভুর বিচার কতটা সুষ্ঠ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।