B'desh-Pak-China Alliance: সার্কের আশা ছেড়ে বাংলাদেশ-পাক-চিনের ত্রিপক্ষীয় জোট তৈরি হবে?
সার্কের বদলে বাংলাদেশ এবং চিনকে সঙ্গে নিয়ে আঞ্চলিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে চিনের কুনমিংয়ে এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা একটি বৈঠক করেছিলেন।
বর্তমানে সার্কের (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন) অস্তিত্ব আর প্রায় নেই। এই আবহে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে সরব হয়েছিলেন। তবে ভারত তাতে কর্ণপাত করেনি। আর এবার সার্কের বদলে বাংলাদেশ এবং চিনকে সঙ্গে নিয়ে আঞ্চলিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার বলেছিলেন, 'দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ও চিনের সঙ্গে মিলে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের সুযোগ রয়েছে।'

এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে চিনের কুনমিংয়ে এই তিন দেশের প্রতিনিধিরা একটি বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিনের উপবিদেশমন্ত্রী সান ওয়েডং, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী বিদেশ সচিব রুহুল আলম সিদ্দিকি এবং পাকিস্তানের অতিরিক্ত বিদেশ সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি। ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছিল চিন। তবে ইশাক দারের নয়া মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৬ সালে উরিতে জঙ্গি হামলার পর থেকে গত ৯ বছরে সার্কের বৈঠক আর হয়নি। এই আবহে কয়েক মাস আগে মাসকটে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করে সার্ক ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এদিকে সার্ক ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যেও কথা হয়। এই দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহী।
পরে অবশ্য বাংলাদেশকে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দেয়, পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট ধরতে আসবেন না। পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি জারি করে বলেছিল, 'দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যেকে জানেন যে সার্কের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে কোন দেশ এবং কোন দেশের কাজকর্ম। সন্ত্রাসবাদের বিষয়টাকে যেন সাধারণভাবে না দেখে বাংলাদেশ।'
এরপরও ইউনুস বলেছিলেন, 'যদি আমাদের সার্কের সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো হত। আমরা পাসপোর্ট থাকলেই ভিসা ছাড়াই একে অপরের দেশে যেতে পারতাম। এক দেশের মানুষ অন্য দেশে বসবাস করতে পারত। সেখানে ব্যবসা করতে পারত। এটা কী দুর্দান্ত আইডিয়া ছিল। একেক দেশের লোক অন্য দেশের লোকের সঙ্গে মিশতে পারত। আমরা এখনও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি যাতে আমরা সেই আগের মতো সার্ক সংগঠনকে সক্রিয় করে তুলতে পারি। তবে আমাদের এক প্রতিবেশীর এই গঠনতন্ত্র ভালো লাগেনি। তাই সার্ক মৃত সংগঠনে পরিণত হয়ে গিয়েছে। তবে আমার প্রশ্ন কেন এটা মৃত সংগঠন? আমরা তো পারস্পরিক সাহায্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে চাই।'












