Bangladeshi Mahfuz Alam on India: 'ভারতের স্বার্থরক্ষা করলে…লড়াই বাংলাদেশের বাইরে যাবে', হামলার ছক ইউনুসের 'ডান হাতের'?
মাহফুজ আলম বলেন, ‘দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- যদি দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে মুক্তির লড়াইও এই দেশের বাইরে যাবে।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলি করার পর থেকেই বাংলাদেশের 'জুলাই বিপ্লবীদের' মনে আতঙ্কের সঞ্চার ঘটেছে। এই আবহে কোনও প্রমাণ বা কারণ ছাড়াই ভারতের দিকে আঙুল তুলছেন তরুণ নেতারা। এবার সেই লেই নাম লেখালেন মহম্মদ ইউনুস সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এই মাহফুজ আলমকেই এক জুলাই বিপ্লবের 'মাস্টারমাইন্ড' আখ্যা দিয়েছিলেন ইউনুস নিজে। সরকারে থাকাকালীন এই মাহফুজ আলমই ভারতের অংশ ভাঙিয়ে বৃহত্তর বাংলাদেশ গড়ার ডাকও দিয়েছিলেন। আর এবার তাঁর হুঁশিয়ারি, 'বাংলাদেশে থেকে যারা ভারত ও ভিনদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।'

মাহফুজ আলম বলেন, 'দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই- যদি দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে মুক্তির লড়াইও এই দেশের বাইরে যাবে। আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদে থাকতে পারবে না। এটাই হচ্ছে শর্ত। ভারত থেকে আপনারা সন্ত্রাসের উস্কানি দেবেন, সন্ত্রাস চালাবেন, আমার ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন, এটা আমরা সহ্য করব না।'
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আরও বলেন, 'আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ ফেলব। এত সুশীলতা করে লাভ নেই। অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে। ৫ অগস্টের পর যখন মুজিববাদীদের, আওয়ামী লীগ ও ১৪–দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রতিটি বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, সেদিন আমরা নিজেদের সংবরণ করেছিলাম। তাই আজকে তারা এই সাহস পাচ্ছে। আমরা ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আমরা আর ক্ষমা করব না।'
উল্লেখ্য, এর আগে ইউনুসের সরকারে থাকাকালীন ভারতের একাধিক রাজ্য মিলিয়ে 'অখণ্ড বাংলাদেশ' গড়ার ডাক দিয়েছিলেন মাহফুজ। তাঁর সেই পোস্ট ঘিরে অবশ্য বিতর্ক শুরু হয়েছিল বাংলাদেশেই। মহম্মদ ইউনুসের 'ডান হাত' হিসেবে পরিচিত এই মাহফুজ আলম। তাঁকে এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়েছিলেন ইউনুস। মাহফুজকেই 'বিপ্লবের মাথা' আখ্যা দিয়েছিলেন ইউনুস। পরে মাহফুজকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা করা হয়েছিল।
মাহফুজের সেই বিতর্কিত পোস্টে লেখা ছিল, 'বিজয় এসেছে, তবে সামগ্রিক নয়। মুক্তি এখনও বহুত দূরে। হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত জনপদ পুনরুদ্ধার ব্যতিত পোকায় খাওয়া পূর্ব পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ নিয়ে আমরা মুক্তিকে ছুঁতে পারব না। এ রাষ্ট্রের জন্মদাগ তথা ভারত নির্ভরতা ও ভারতের আধিপত্য মুক্ত রাখতে ৭৫ আর ২৪-র ঘটনা ঘটাতে হয়েছে। দুই ঘটনার ব্যবধান ৫০ বছর। কিন্তু আদতে কিছুই পরিবর্তন হয়নি। নতুন ভূগোল ও বন্দোবস্ত লাগবে। একটি খণ্ডিত ভূমি, একটা জন্মদাগ নেওয়া রাষ্ট্র দিয়ে হয় না।' এরপর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়ি, সেভেন সিস্টার্স অর্থাৎ ত্রিপুরা, মণিপুর সহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিকে দখল করে অখণ্ড বাংলা তৈরির কথা বলেছিলেন মাহফুজ আলম। তাঁর দাবি ছিল, এই ম্যাপ তৈরি না হলে পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন হবে না। পরে অবশ্য বিতর্কের মুখে নিজের সেই পোস্ট মুছে দিয়েছিলেন মাহফুজ আলম।












