নয়া ফর্মুলা! বিহারে সরকার গঠনে তৎপরতা তুঙ্গে, বিশেষ বৈঠকে নীতীশ, কী বলছে BJP?
সোমবার, অর্থাৎ আজ বিহারের পুরনো মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এদিন ক্যাবিনেট মিটিং করবেন নীতীশ কুমার।
শুক্রবার গেরুয়া ঝড় তুলে প্রত্যাবর্তন করেছে এনডিএ জোট। আর রবিবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিহারের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড়। শোনা যাচ্ছে, বিহারের নতুন এনডিএ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে বিজেপি এবং জেডিইউ নেতাদের মধ্যে মন্ত্রিসভা ভাগাভাগির বিষয়ে প্রথম দফা আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রতি ছ’জন বিধায়ক পিছু এক জন মন্ত্রী-এই ফর্মুলাতেই এগোতে রাজি হয়েছে বিজেপি-জেডিইউ জোট।
সোমবার, অর্থাৎ আজ বিহারের পুরনো মন্ত্রিসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এদিন ক্যাবিনেট মিটিং করবেন নীতীশ কুমার। এরপর তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নীতীশ কুমারের পদত্যাগের পর, এনডিএ-র অন্তর্ভুক্ত দলগুলি জোটের নেতা নির্বাচনের জন্য তাদের আইনসভা দলের সভা ডাকবে। নির্বাচিত নেতা পরবর্তী সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজ্যপালের কাছে যাবেন। শনিবার, একদা প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেন এলজেপি(রামবিলাস) নেতা চিরাগ পাসোয়ান। তিনি নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। তবে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। এই আবহে এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বলেন, 'একটি করে আসন সম্ভবত আরএলএম এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (হাম)-এর কাছে যাবে, তিনটি এলজেপি(রামবিলাস)-এর কাছে যাবে এবং বাকি ৩০-৩১টি আসন বিজেপি এবং জেডিইউ-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে, কিছু সমন্বয় হতে পারে এবং দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদেও পরিবর্তন হতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'মন্ত্রিসভার ব্লুপ্রিন্ট চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এতে অভিজ্ঞ নেতা এবং নতুন মুখের মিশ্রণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্পিকার নির্বাচনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এবং অতীতের মতো, এই পদটি বিজেপির কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (হাম) ইতিমধ্যেই বিধানসভা দলনেতা হিসেবে শিকান্দরের বিধায়ক প্রফুল্ল মাঞ্জিকে বেছে নিয়েছে। দলের স্পষ্ট বক্তব্য, 'নীতীশ কুমারই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। আমরা উপর্যুপরি সমর্থন জানাচ্ছি।' দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনে পৃথক বৈঠকে যোগ দেন হাম প্রধান জিতনরাম মাঝি এবং আরএলএম নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহা। বিজেপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভিনোদ তাওড়ে। মূল আলোচনা-দলগুলির মন্ত্রীত্ব দাবি এবং সরকারে অংশগ্রহণের রূপরেখা। এদিকে, শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। পাটনার গান্ধী ময়দানে অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ শুরু হয়েছে। ১৯ বা ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচির উপর নির্ভর করে শপথ গ্রহণ হতে পারে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রীরও উপস্থিত থাকার কথা। উল্লেখ্য, এনডিএ-র ঝড়ে রীতিমতো উড়ে গিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি এক লাফে ৭৪ থেকে ৮৯- অন্যদিকে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৪৩ থেকে সরাসরি ৮৫-এ। ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় দুই সঙ্গীর প্রায় ৮৫ শতাংশ স্ট্রাইক রেট এনডিএ-কে দিয়েছে স্বচ্ছ, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা।












