সীমাঞ্চলে ভাগ্য নির্ধারণ! চূড়ান্ত পর্বে জোরদার লড়াই বিহারে, কী বলছে 'ভোট অঙ্ক'?

বিহারে চূড়ান্ত পর্বে যে এলাকাগুলিতে ভোট হচ্ছে সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হল সীমাঞ্চল।

Published on: Nov 09, 2025 9:35 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আগামী মঙ্গলবার বিহারের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২২টি আসন বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে। রবিবার বিকেলে শেষ হচ্ছে বিহারের দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার। তার আগে শাসক ও বিরোধী জোটের নির্বাচনী প্রচারে জমজমাট মগধভূম। এই পর্বে যে যে এলাকায় ভোট হতে চলেছে সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সীমাঞ্চল।

চূড়ান্ত পর্বে জোরদার লড়াই বিহারে
চূড়ান্ত পর্বে জোরদার লড়াই বিহারে

বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোট

বিহার বিধানসভার দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফার নির্বাচনে ২০টি জেলায় মোট ১২২টি আসনে ভোট হবে। এসআইআর-এর পর এই প্রথম ভোট হচ্ছে বিহারে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, মোট ১,৩০২ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। যার মধ্যে ১,১৬৫ জন পুরুষ, ১৩৬ জন মহিলা এবং ১ জন তৃতীয় লিঙ্গ প্রার্থী আছেন। মোট ভোটার ৩.৭০ কোটি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১.৯৫ কোটি। মহিলা ভোটার ১.৭৪ কোটি। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হবে। বলে রাখা ভালো, ২০২০ সালে এই ১২২ আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ৪২ আসনে। অন্যদিকে, লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি পেয়েছিল মোট ৩৩টি আসন। নীতীশ কুমারের জেডিইউ জয় পেয়েছিল ২০ আসনে। আর কংগ্রেস দখল করে ১১টি আসন। বামেদের দখলে যায় ৫ আসন। তবে ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, যখন জেডিইউ এবং আরজেডি জোট ছিল, তখন বিজেপির আসন সংখ্যা ৩৬-এ নেমে এসেছিল। তখন জেডিইউ-আরজেডি-কংগ্রেস জোট এই ১২২ আসনের মধ্যে ৮০টিতেই জয়ী হয়েছিল।

আঞ্চলিক অঙ্ক

দ্বিতীয় ধাপে বিহারের যে ১২২ টি আসনে ভোট হচ্ছে, এরমধ্যে বেশ কিছু জেলা মহাজোটের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। মগধ অঞ্চলে মহাগঠবন্ধনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গয়া, ঔরঙ্গাবাদ, নওয়াদা, জেহানাবাদে এবং আরওয়াল জেলা। তবে এই অঞ্চলে কংগ্রেসের তেমন প্রভাব নেই এবং তাদের মূলত মিত্রদের উপর নির্ভর করতে হয়। অন্যদিকে, তিরহুত, সরণ এবং এবং মিথিলাঞ্চলের একটা অংশে শক্তিশালী বিজেপি। এরমধ্যে রয়েছে পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, শেওহর, সীতামারহি এবং সরণ জেলা। এদিকে, জেডিইউ ভাগলপুর এলাকায় ক্রমশ তাদের শক্তি হারাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে আরজেডি। লালু প্রসাদ যাদবের দল লড়বে ৭০ আসনে। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে ৩৭ জন। ভিআইপি ১০ আসনে। এনডিএর সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির ৫৩ আসনে লড়ছে এই পর্বে। ৪৪ আসনে লড়ছে নীতীশের দল। চিরাগ পাসওয়ানের দল লড়ছে ১৫ আসনে। হাম প্রার্থী দিয়েছে ৬ আসনে। এছাড়া প্রায় সব আসনে প্রার্থী রয়েছে জন সুরাজ পার্টি।

সীমাঞ্চলে লড়াই

বিহারে চূড়ান্ত পর্বে যে এলাকাগুলিতে ভোট হচ্ছে সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হল সীমাঞ্চল। বিহারের সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ এই এলাকার বাসিন্দা। পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ এবং কাটিহার-এই চারটি জেলার ২৪টি আসনে বড় লড়াইয়ের সম্মুখীন হবে শাসকদল এবং বিরোধী শিবির। বিহারের ১৭ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার বড় অংশ এই এলাকায় বসবাস করেন। এই সীমাঞ্চলে এবার কেমন ভোট হয় নজর থাকবে সব দলের। ২০২০ সালে এই এলাকায় বড় শক্তি হিসাবে উঠে আসে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন-এর (এআইএমআইএম)। পাঁচটি আসনে জেতে তারা। অন্যদিকে, মহাজোট এবং মিমের ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি ৮ এবং জেডিইউ ৪ আসনে জয়ী হয়। মহাজোটের তরফে কংগ্রেস পাঁচটি, বামেরা এবং আরজেডি একটি করে আসন জেতে। এবারও সীমাঞ্চলে নজর রয়েছে শাসক এবং বিরোধী- দুই শিবিরের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির তাবড় তাবড় নেতাদের জনসভা থেকে শুরু করে কংগ্ৰেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে পদযাত্রা পর্যন্ত- সমস্ত দলই সীমাঞ্চলের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।

News/News/সীমাঞ্চলে ভাগ্য নির্ধারণ! চূড়ান্ত পর্বে জোরদার লড়াই বিহারে, কী বলছে 'ভোট অঙ্ক'?