দিল্লির পর বিহারেও ভোট! কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন বিরোধীদের, অবস্থান স্পষ্ট করলেন BJP নেতা
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সতর্ক করে বলেছেন, মিথ্যা প্রচারের জন্য তিনি শীঘ্রই মানহানির মামলা করার কথাও ভাবছেন।
কয়েকমাস আগে দিল্লিতে ভোট দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ রাকেশ সিনহা। এবার বিহারেও ভোট দিলেন তিনি। এমনই অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি ও আরজেডি। বিরোধী দলগুলির দাবি, এটি ভোট তালিকার গুরুতর অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের নজরদারি ব্যর্থতার প্রমাণ। এই বিতর্কের আবহে অবশেষে মুখ খুললেন প্রাক্তন সাংসদ রাকেশ সিনহা।

এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেতা বলেন, বিরোধীরা অসম্মান করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, 'কংগ্রেসের উচিত প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে প্রশ্ন করা। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন অথচ অসমের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। এবং অসম থেকেই তিনি রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।' রাকেশ সিনহা আরও বলেন, 'আমার ক্ষেত্রে, সকলেই জানেন যে আমি কীসের পক্ষে-সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা। আমি কয়েক দশক ধরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। বিহারের বেগুসরাইয়ে আমার গ্রাম। আমার কূটনৈতিক পাসপোর্টে, আমার স্থায়ী ঠিকানায় রয়েছে একই গ্রাম। দুবার ভোট দেওয়ার অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা রাকেশ সিনহা বলেন, ' দলীয় কর্মীদের দাবি এবং জনগণের পরামর্শ অনুসারে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির মাধ্যমে [দিল্লিতে] আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।' তিনি বলেন, বিহারে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিজেপি নেতার কথায়, 'আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে সবকিছু নিয়ম মেনে হচ্ছে এবং আমার পক্ষ থেকে কোনও সাংবিধানিক অসঙ্গতি যেন না থাকে।'
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, 'আমি ভাবিনি রাজনীতি এতটা নীচে নামতে পারে। যারা সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের শতবার ভাবা উচিত। আমার নাম দিল্লির ভোটার তালিকায় ছিল। কিন্তু বিহারের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে আমি আমার নাম পরিবর্তন করে মনসেরপুরে (বেগুসরাই) অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই অভিযোগের জন্য কি আমার মানহানির মামলা করা উচিত নয়?' তিনি আরও জানান, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সতর্ক করে বলেছেন, মিথ্যা প্রচারের জন্য তিনি শীঘ্রই মানহানির মামলা করার কথাও ভাবছেন।
কী বলছে বিরোধীরা?
বৃহস্পতিবার বিহারে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতার দু’বার ভোট দেওয়ার ছবি শেয়ার করে বলেন, রাকেশ সিনহা নামে এক বিজেপি নেতা গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেন। আবার বৃহস্পতিবারও তাঁকে ভোট দিতে দেখা গিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মাসকয়েক আগে উনি দিল্লিতে ভোট দিয়েছিলেন। দিল্লিতে থাকেন, এখানকার মতিলাল নেহরু কলেজে পড়ান, তাহলে বিহারের বাসিন্দা হলেন কীভাবে?’ বিজেপির দিল্লি পূর্বাচল মোর্চার সভাপতি সন্তোষ ওঝা ও দলীয় কর্মী নগেন্দ্র কুমারকেও দিল্লির পরে বিহারেও ভোট দিতে দেখা গিয়েছে বলেও দাবি বিরোধীদের। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট চুরি'র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও আরজেডি নেতৃত্বও। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিনহা।












