মাত্র ৪৫ বছরে গুরুদায়িত্ব! PM মোদীর সুপারিশে BJP-র নতুন কাণ্ডারী নীতীন নবীন, চেনেন কী তাঁকে?
বয়সের নিরিখে বিজেপির কনিষ্ঠতম সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নতুন নজির গড়েছেন নীতীন নবীন।
মাত্র ৪৫ বছর বয়সে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন বিহারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী নীতীন নবীন। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদায়ী সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথগ্রহণ করলেন বিহারের ভূমিপুত্র নীতীন নবীন। বয়সের নিরিখে বিজেপির কনিষ্ঠতম সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নতুন নজির গড়েছেন তিনি।

সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নীতীন নবীন। তারপরেই মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর দায়িত্ব সামলেছেন জেপি নাড্ডা। তাঁর মেয়াদ শেষের আগে গত ডিসেম্বরেই নীতীন নবীনকে দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে বসানো হয়েছিল। দলের অন্দরমহলে তখন থেকেই স্পষ্ট ছিল, ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য নিতিন নবীনই গেরুয়া শিবিরের বড় ভরসা। এদিন নীতীন নবীন ১২তম বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, 'বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপির সভাপতি হওয়ার জন্য আমি নীতীন নবীনকে অভিনন্দন জানাই। দলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য আমি বিজেপির সমস্ত প্রাক্তন সভাপতিদেরও ধন্যবাদ জানাই।' অন্যদিকে, পূর্বসূরী জেপি নাড্ডা বলেন, 'আপনি (নীতীন নবীন) এত বড় দলের দ্বাদশ জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনাকে অনেক অভিনন্দন এবং শুভকামনা রইল।'
নীতীন নবীনের নাম প্রস্তাব
নির্বাচনসূচি অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৩৭ সেট মনোনয়ন জমা পড়েছিল, যার প্রত্যেকটিতেই নীতীন নবীনের নাম প্রস্তাব করা হয়। স্ক্রুটিনি এবং নাম প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখা যায়, তিনি একাই এই পদের একমাত্র বৈধ প্রার্থী। ফলে নির্বাচন ছাড়াই তাঁকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নিতিন নবীন থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই নীতীন নবীনের নাম সুপারিশ করেছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি, ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব, কিরেন রিজিজু, হরদীপ সিং পুরী এবং বিদায়ী সভাপতি জেপি নাড্ডা-সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র বিজেপি নেতা তাঁর নাম সুপারিশ করেন।
এর আগে বিজেপির শীর্ষ পদে কে ছিলেন?
গত ডিসেম্বরে নীতীন নবীনকে বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল, যা ইতিমধ্যেই তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এর আগের বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাও এই ভাবেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই পদে এসেছিলেন। ২০১৯ সালের জুন মাসে তিনি দলের দায়িত্ব নেন জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে। তারপর তিনি এই পদের পূর্বসূরী অমিত শাহের স্থলাভিষিক্ত হন। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাড্ডা। পরে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়।
নীতীন নবীন কে?
প্রয়াত বিজেপি নেতা এবং বিহারের চারবারের বিধায়ক নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পুত্র নীতিন নবীন বিহারের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। বাবার মৃত্যুর পরে উপ নির্বাচনে বিরাট মার্জিনে জিতে ২০০৬ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিতিনের। তিনি বর্তমানে বিহার সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পাটনার বাঁকিপুর আসন থেকে আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীকে ৫১ হাজার ভোটের বেশি ব্যবধানে পরাজিত করেন। দলের অন্দরে সুসংগঠক হিসাবেই তাঁর সুনাম। বিহারের মন্ত্রী এবং ছত্তিশগড়ের বিজেপির ইনচার্জ হিসাবে তাঁর কাজ প্রায়শই তাঁর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর সংগঠনিক দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই তাঁকে দলের শীর্ষ সাংগঠনিক পদে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
৪৫ বছর বয়সি নীতীন নবীনের নিয়োগকে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, নবীনের এই নিয়োগ কংগ্রেসের নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গে একেবারেই বিপরীত। বর্তমানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ৮৪ বছর বয়সি প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সংগঠনের কাজ, মাঠের রাজনীতি আর কৌশলী নেতৃত্ব-এই তিনের মেলবন্ধনে নীতীন নবীনকে ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি। এবার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর কাঁধে গোটা দেশের সংগঠন সামলানোর গুরুদায়িত্ব। বয়সে তরুণ হলেও দায়িত্বের ভার যে কতটা বড়, তা ভালই জানেন এই নেতা।
E-Paper











