'শেখ হাসিনার সন্তানরা...,' ভোটমুখী বাংলাদেশে নয়া সমীকরণ? ইঙ্গিতবাহী বার্তা BNP সর্বেসর্বার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লিগ, ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় রদবদল ঘটেছে।
একদিকে কট্টরপন্থী জামাত, অন্যদিকে বিএনপি-আওয়ামী লিগ। ভেটের মুখে বুঝি এই দিকেই বাঁক নিচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি? ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, ভোটের আগে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এমনই ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, জনগণ চাইলে যে কেউ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন, এমনকী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানরাও।

জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগ কার্যত রাজনীতির বাইরে চলে যাওয়ায়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির মতে বিএনপি সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লিগ, ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় রদবদল ঘটেছে। দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তাঁর সন্তানরাও দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার চলছে। এই আবহে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নির্বাচনের পর তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
তারেক রহমানের সহকারীরা বলছেন, নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের বিষয়ে বিএনপি আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি আসনগুলোতে তাঁদের জোট শরিকরা লড়ছেন। নির্বাচনে বিএনপি কত আসনে জয় পেতে পারে, সে সংখ্যা বলতে চাননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’ নির্বাচনে জয়ী হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চিনের দিকে ঝুঁকবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনও উত্তর দেননি তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সক্ষমতা রয়েছে, এমন অংশীদারদের প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ‘আমরা যদি সরকারে থাকি, তাহলে আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আনতে হবে, যাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন যাপন করতে পারে। তাই বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে-ই আমার জনগণ ও দেশের জন্য সঠিক প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব রাখব, নির্দিষ্ট কোনও দেশের সঙ্গে নয়।’
আওয়ামী লিগ ও তারেক রহমান
সাক্ষাৎকারে রয়টার্সের তরফে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপি সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা। উত্তরে তারেক রহমান বলেন, 'যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাঁদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।' তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, সেই প্রেক্ষিতেই তারেক রহমানের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
E-Paper











