'আপনি চাইলে...,' তুমুল বিতর্কের মাঝে 'সঞ্চার সাথী' নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

সঞ্চার সাথী অ্যাপ ফিরিয়ে এনেছে পেগাসাস বিতর্কের স্মৃতি। সে সময়ে জাতীয় রাজনীতি কার্যত উত্তাল হয়েছিল।

Published on: Dec 02, 2025 4:24 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সোমবারেই জানা গিয়েছিল, সাইবার ক্রাইম রুখতে এবার স্মার্টফোনে আসছে নতুন সরকারি অ্যাপ 'সঞ্চার সাথী।' ফোনে আগে থেকেই এই অ্যাপ প্রি-ইনস্টলড থাকবে। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। এবার 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ নিয়ে গোপন নজরদারি ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে এই অ্যাপটি মুছে ফেলার বিকল্প থাকবে। অর্থাৎ এই অ্যাপ ফোনে রাখা বাধ্যতামূলক নয়।

'সঞ্চার সাথী' নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের (PTI)
'সঞ্চার সাথী' নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের (PTI)

মঙ্গলবার বার্তা সংবাদ এএনআই-কে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, 'আপনি চাইলে সঞ্চার সাথীকে অ্যাক্টিভেট করতে পারেন। না চাইলে করবেন না। আর কেউ না চাইলে অ্যাপটি ডিলিটও করে দিতে পারেন। সম্পূর্ণটাই ঐচ্ছিক।' তাঁর বক্তব্য, সরকারের ভূমিকা জননিরাপত্তার জন্য একটি হাতিয়ার হিসেবে অ্যাপটি উপলব্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা ফোনে অ্যাপটি রাখেবন না রাখবেন না, তা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীদের উপরেই। তিনি আরও বলেন, 'সাইবার প্রতারণা থেকে সুরক্ষার জন্য এমন একটি অ্যাপ রয়েছে তা সকল দেশবাসী জানেন না। তাঁদের এ বিষয়ে জানানো আমাদের দায়িত্ব।' টেলিকম মন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল, অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কল বা ব্যক্তিগত তথ্য নজরদারি করে না। বরং মোবাইল চুরি, সিম জালিয়াতি বা আর্থিক প্রতারণা আটকাতে এটি একটি সরকারি সাইবার-সুরক্ষা উদ্যোগ। অন্যদিকে, সঞ্চার সাথী অ্যাপ ফিরিয়ে এনেছে পেগাসাস বিতর্কের স্মৃতি। সে সময়ে জাতীয় রাজনীতি কার্যত উত্তাল হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত পরিসরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দাবি করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত তথ্য হাতাতেই এই অ্যাপের ব্যবহার।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সঞ্চার সাথীকে স্ন্যুপিং অ্যাপ বলেছেন। তিনি বলেন, 'এটি একটি গুপ্তচরবৃত্তির অ্যাপ। আমি বলতে চাইছি, এটি হাস্যকর। নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। তাঁরা পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের কাছে তাদের নিজস্ব বার্তা পাঠাবেন, কিন্তু সেসব কিছু সরকার দেখবে কেন। তারা এই দেশকে প্রতিটি আঙ্গিক থেকে একনায়কতন্ত্রে পরিণত করছে।' এরমধ্যেই কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী রাজ্যসভায় একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিস দাখিল করেছেন, যাতে নতুন মোবাইল হ্যান্ডসেটে 'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ ইনস্টল করার বিষয়ে সরকারের নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা করার জন্য কার্যবিবরণী স্থগিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী আবার এই সিদ্ধান্তকে 'বিগবস-এর নজরদারি' চালানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালও এই সিদ্ধান্তকে অসংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে, বিজেপি সাংসদ শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠি এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'গোপনীয়তার কোন বিপদ নেই এবং সমস্ত ডেটা ডিজিটালি সুরক্ষিত থাকবে।' ত্রিপাঠি আরও বলেন, 'আমি আইআইটি থেকে পড়েছি, আমি জানি কী ধরনের সাইবার আক্রমণ হচ্ছে… আমাদের ডেটা কখনও বেরিয়ে যাবে না এবং নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা ডিজিটালি সুরক্ষিত থাকবে।' এদিকে, বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেছেন, 'সরকারের যুক্তি সম্পর্কে আমার আরও গভীরে খোঁজখবর নেওয়া উচিত। কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের উচিত জনসাধারণের কাছে সবকিছু ব্যাখ্যা করা। আমাদের এমন একটি আলোচনা করা উচিত যেখানে সরকার সিদ্ধান্তের পিছনের আসল তথ্য প্রকাশ করবে।' অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বলেন, 'বিরোধীদের সব ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু সমস্যা খুঁজে বার করার চেষ্টার কোনও দরকার নেই। হট্টগোল পাকানোর জন্য সব কিছুকে হাতিয়ার করবেন না।'

News/News/'আপনি চাইলে...,' তুমুল বিতর্কের মাঝে 'সঞ্চার সাথী' নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের