পাকিস্তানের সর্বেসর্বা মুনির! নয়া সমীকরণ, Op সিঁদুর প্রত্যাঘাতে সংবিধান পরিবর্তন শরিফের?
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ হিসাবে পরিচিত পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে জঙ্গিহানায় নিহত হয়েছিলেন ২৬ জন। সেই হত্যালীলার প্রত্যাঘাত হিসাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরিকল্পনা করে ভারত।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীর বিক্রমে হাঁটু-কোমর সব ভেঙে একাকার হয়েছে পাকিস্তানি সেনার। অপারেশন সিঁদুরের প্রত্যাঘাতের পরও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এবার তাঁকে দেশের সর্বেসর্বা বানাতে পাক সংবিধান সংশোধন করে নতুন একটি পদ তৈরি করা করল শাহবাজ শরিফ সরকার। সে দেশের তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ভাল সমন্বয় তৈরির জন্য এই পদ তৈরি করা হয়েছে।

পাকিস্তানে বিচার বিভাগ ও সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে শনিবার সংসদে ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। ২৪৩ ধারায় পরিবর্তনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এই ধারা পাকিস্তানের সেনা সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণনা করেছে। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সেনা প্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সকে নিয়োগ করবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের যিনি চিফ অব আর্মি স্টাফ হবেন, তিনিই ডিফেন্স ফোর্সেরও প্রধান হবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক কম্যান্ডের প্রধানকে নিয়োগ করবেন। পাকিস্তান সেনা থেকেই ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক কম্যান্ডের প্রধান বাছাই করা হবে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার এবার থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল ও অ্যাডমিরাল পদে প্রোমোশন বা পদোন্নত করতে পারবে। ফিল্ড মার্শালরা আজীবন এই র্যাঙ্ক এবং এর সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। বিলে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের পদের মেয়াদ ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে শেষ হবে।
পাকিস্তানের সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ছাড়াও একাধিক বিষয় রয়েছে। একটি সাংবিধানিক আদালত চালুর কথা ভাবছে সে দেশের সরকার। এছাড়া, বিচারপতিদের বদলি, প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার নিয়েও একাধিক প্রস্তাব রয়েছে। বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, নতুন ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’ গঠনের, যা সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আদালতের প্রধান বিচারপতি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারক নিয়োগে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং আদালতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে বলে খসড়ায় উল্লেখ আছে। পাকিস্তানি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের অ্যাকশন দেখে পাকিস্তানও মনে করেছে যে আধুনিক সময়ের যুদ্ধে সেনার তিন বাহিনীর মধ্যে আরও সমন্বয় দরকার। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ হিসাবে পরিচিত পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে জঙ্গিহানায় নিহত হয়েছিলেন ২৬ জন। সেই হত্যালীলার প্রত্যাঘাত হিসাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরিকল্পনা করে ভারত। ৬ মে রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। এরপরেই শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান সংঘাত। অবশেষে ১০ মে ভারত এবং পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
গত মাসে ভারতের বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং জানান, অপারেশন সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের এক ডজন যুদ্ধবিমান ভারত ধ্বংস করেছে। তারমধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ বিমানও। তবে অপারেশন সিঁদুর এবং তারপরে ১০ মে পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরই পাকিস্তান সরকার সেনা প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে পদোন্নতি দিয়ে ফিল্ড মার্শাল পদ দেয়। পাকিস্তানে এই বিল পাশ হলে, নতুন পদ কার্যকর হবে চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে। পাক আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, নতুন কোনও নিয়োগ করা হবে না। অর্থাৎ আসিম মুনিরই এই সর্বোচ্চ পদে বসবেন। তারার বলেন, 'বর্তমান সিজেসিএসসি আমাদের হিরো। তাঁর নিয়োগ শেষ হওয়ার পর এই পদ অবলুপ্ত করে দেওয়া হবে। তাঁর মেয়াদ থাকাকালীন সংসদ তাঁকে এই পদ থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।' অন্যদিকে, পাকিস্তানে প্রস্তাবিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঘোষণা করেছে বহুদলীয় বিরোধী জোট তেহরিক-ই-তাহাফুজ-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)। মজলিস ওয়াহদাতুল মুসলেমিনের প্রধান আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, ‘পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি আজ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। জাতিকে এখনই ২৭তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এই সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতাশীলদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দিতে চাইছে।












