Chinese Evaluation near Chicken's Neck: ভারতের চিকেন নেকের কাছেই 'সমীক্ষা' চালাচ্ছে চিন, ঘুরে গেলেন চিনা দূত!
শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বাংলাদেশ অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চিন যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আগ্রহী।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে। আর এরই মধ্যে চিনের সঙ্গে দহরম হরম বেড়েছে বাংলাদেশের। এই আবহে শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত তিস্তা নদী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের জন্য চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই মতো সেখানে তিনি গিয়ে ঘুরেও এসেছেন। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই তিস্তা প্রকল্পের এলাকা। এর পূর্ব দিকে সীমান্তের এপারেই 'চিকেন নেক' অবস্থিত। এই সংকীর্ণ ২২ কিলোমিটার এলাকার দুই পাশে দুই দেশ। উত্তরপূর্ব ভারতকে বাকি দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করে এই ২২ কিমি পথ। এই আবহে বাংলাদেশের দিকে এই চিনা তৎপরতা ভারতের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলেছে, চিনা রাষ্ট্রদূতের এই সফর তিস্তা নদী কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় চলমান ইঞ্জিনিয়ারিং সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশ অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চিন যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আগ্রহী। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও চিন উভয়ই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রকল্পের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি, তাই এই মুহূর্তে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের এই তিস্তা নদী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে কয়েক দশক ধরে আলোচনা চললেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্বেগের কারণে এখনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। আর এরই মাঝে এই তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহী চিন।
এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল ঢাকায়। সেই বৈঠক শেষে ইউনুসের প্রেস উইং বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, তিস্তা নদী কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চিন ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় দুজনের। এতে আরও বলা হয়, চিনা রাষ্ট্রদূত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের কথা জানান এবং প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য চিনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে আদতেই তিস্তা প্রকল্পের জন্য সেখানে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে নাকি চিন অন্য কিছু করছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জন্য একটি কৌশলগত এলাকা। এই অঞ্চলে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা উত্তরপূর্বের প্রায় ৫ কোটি মানুষের সুরক্ষাকে বিপন্ন করতে পারে। এই অঞ্চলটি নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিনের খুবই কাছে। এই সবের মাঝেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লালমনিরহাটে পুরনো বিমানঘাঁটি সক্রিয় হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এর সঙ্গে চিনের যুক্ত থাকার সম্ভাবনাও শোনা যাচ্ছে। এই আবহে ভারতের জন্য তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সবের মাঝে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন। উল্লেখ্য, চিকেন নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২-২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার।
E-Paper











