খোঁজ মেলেনি বহু অভিযানেও! নন্দাদেবীর বরফে ৬০ বছর ‘লুকিয়ে’ CIA-র পারমাণবিক ডিভাইস : Report
সিআইএ সিদ্ধান্ত নেয়, ভারত-চিন সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয়ের উচ্চ শৃঙ্গে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যান্টেনা বসানো হবে।
স্নায়ুযুদ্ধের যুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বরফে ঢাকা হিমালয়ের নন্দা দেবী পর্বতে একটি গোপন অভিযান চালিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল চিনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর নজরদারি করা। কিন্তু সেই অভিযানের পরিণতি হয় ভয়াবহ ও রহস্যজনক। প্লুটোনিয়াম-চালিত একটি পারমাণবিক ডিভাইস সেখানে হারিয়ে যায়, যা আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন তখন সদ্য পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সিআইএ সিদ্ধান্ত নেয়, ভারত-চিন সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয়ের উচ্চ শৃঙ্গে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যান্টেনা বসানো হবে। এতে ব্যবহার করা হয় ১৩ কেজি ওজনের স্ন্যাপ-১৯সি নামের একটি জেনারেটর, যার ভেতরে ছিল বিপজ্জনক প্লুটোনিয়াম। এর পরিমাণ নাগাসাকিতে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার এক-তৃতীয়াংশ। এই গোপন অভিযানে জড়িত ছিলেন ভারতীয় এবং মার্কিন পর্বতারোহীরা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এম এস কোহলি। ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া অভিযানের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানে। প্রাণ বাঁচাতে পর্বতারোহীরা ক্যাম্প ফোরের কাছে বরফাচ্ছাদিত এক খাঁজে যন্ত্রপাতি লুকিয়ে রেখে নেমে আসতে বাধ্য হন।
পরের বছর উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও ততক্ষণে সবকিছু নিশ্চিহ্ন। ধারণা করা হয়, প্রবল তুষারধসে যন্ত্র-সহ পুরো বরফখণ্ড নিচে নেমে যায়। বিকিরণ শনাক্তকারী যন্ত্র, ইনফ্রারেড সেন্সর-সব ব্যবহার করেও প্লুটোনিয়াম ডিভাইসের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও ১৯৭৮ সালে সাংবাদিক হাওয়ার্ড কোহনের অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তোলে, এই যন্ত্র গঙ্গা নদীর উৎসকে দূষিত করতে পারে, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। হিমালয় পর্বতশৃঙ্গ থেকে জন্ম নেওয়া গঙ্গা নদী বাংলাদেশে ঢুকে পদ্মা নাম ধারণ করে। ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সরকার প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলে। তবে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই নীরবে বিষয়টি সামাল দেন। আজ, ছয় দশক পরও হিমালয়ের বিশাল কোন বরফখণ্ডের তলায় হয়ত অক্ষতভাবে পড়ে আছে সেই পারমাণবিক ডিভাইসটি-যা ইতিহাসের এক অন্ধকার, বিপজ্জনক ও অনুশোচনাময় অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।












