বিপদে জেনারেল ক্যাটাগরির পড়ুয়ারা? UGC-র নয়া গাইডলাইন ঘিরে চরম সংঘাত, কেন্দ্রের...

এই নতুন নিয়ম ঘিরেই উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

Published on: Jan 27, 2026 10:59 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতিগত বৈষম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি, এসসি, এসটি এবং সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে উত্তর ভারতে জেনারেল ক্যাটেগরির পড়ুয়া ও বিজেপি নেতাদের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনটাই এনডিটিভির সূত্রের খবর।

UGC-র নয়া গাইডলাইন ঘিরে চরম সংঘাত (সৌজন্যে টুইটার)
UGC-র নয়া গাইডলাইন ঘিরে চরম সংঘাত (সৌজন্যে টুইটার)

বিভিন্ন সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, বিরোধীদের দ্বারা ছড়িয়ে পড়া 'ভুল তথ্য' মোকাবেলায় সরকার সঠিক তথ্য প্রকাশ করবে। বিরোধীরা 'বিষয়টি আরও বাড়ানোর' চেষ্টা করছে, যার মধ্যে এখন উত্তরপ্রদেশের বরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং শাসকদল বিজেপির যুব শাখা, যুব মোর্চার একজন নেতার পদত্যাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেলা কর্মকর্তা, অলঙ্কার অগ্নিহোত্রী এবং বিজেপি নেতা (এখনও নাম প্রকাশ করা হয়নি) উভয়ই সতর্ক করেছেন যে নতুন নিয়মগুলি সংস্কারের পরিবর্তে বিভাজন ছড়িয়ে দেবে। অগ্নিহোত্রী একে 'কালো আইন' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে এটি শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবেশ নষ্ট করবে এবং অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করা উচিত।

কী রয়েছে ইউজিসি-র নতুন গাইডলাইনে?

ইউজিসি-র প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (ইওসি) তৈরি করা বাধ্যতামূলক। এই সেন্টারের অধীনে থাকবে একটি শক্তিশালী ‘ইক্যুইটি কমিটি।' প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজে এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন ওবিসি, এসসি, এসটি, মহিলা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিনিধিরা। শিক্ষাঙ্গনে জাতপাত সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগের তদন্ত ও সমাধান করবে এই কমিটি। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইউজিসি স্বীকৃতি বাতিল হতে পারে, এমনকী বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে সরকারি ফান্ড। হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি স্কলার রোহিত ভেমুলার মর্মান্তিক মৃত্যুর ১০ বছর পেরিয়েছে ক’দিন আগেই। সেই ঘটনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা বারবার দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্ধকার দিকটি তুলে ধরেছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের জন্য অত্যন্ত কঠোর নতুন এক গাইডলাইন তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

কেন বাড়ছে বিতর্ক?

এই নতুন নিয়ম ঘিরেই উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জেনারেল ক্যাটেগরির পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের বড় অংশ আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

প্রথমত, একতরফা নিয়ম- সমালোচকদের দাবি, এই গাইডলাইনটি ‘এক শ্রেণি শোষিত এবং অন্য শ্রেণি শোষক’, এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

দ্বিতীয়ত, মিথ্যা মামলার ভয়- সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের আশঙ্কা, এই কমিটির মাধ্যমে তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হতে পারে।

তৃতীয়ত, জরিমানার অভাব- অভিযোগকারীদের জন্য কোনও শাস্তির বিধান না থাকায় এই আইনের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিরোধ

ইউজিসি-র এই নয়া নিয়মকে কেন্দ্র করে খোদ শাসক দল বিজেপির অন্দরেই ফাটল ধরেছে। সোমবার লখনউতে ১১ জন বিজেপি আধিকারিক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। নয়ডায় বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি রাজু পণ্ডিত পদত্যাগ করে এই নিয়মকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ সঞ্জয় সিং-ও এই গাইডলাইন নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জৌনপুরে ‘ধর্ম রক্ষা আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, এই আইন সংবিধানের মূল ভাবনার পরিপন্থী। জয়পুরে করণি সেনা, ব্রাহ্মণ মহাসভা, কায়স্থ মহাসভা এবং বৈশ্য সংগঠনগুলি এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য সবর্ণ সমাজ সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। গাজিয়াবাদের দাসনা পীঠের প্রধান যতি নরসিংহানন্দ গিরি প্রকাশ্যে ইউজিসি নিয়মের বিরোধিতা করেছেন।