Delhi Mosque Demolition Explained: দিল্লিতে তুর্কমান গেটে বুলডোজাল চলল মসজিদে, জখম ৫ পুলিশ, ধৃত ১০, কী নিয়ে এই বিতর্ক?

তুর্কমান গেট এলাকায় প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট জায়গা ‘অবৈধ দখল’-এর অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। হাই কোর্টের নির্দেশে ওই এলাকায় জরিপের কাজ শুরু হয়। সেই মামলায় দেওয়া নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই শুরু হয় অভিযান। 

Published on: Jan 07, 2026 12:40 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বুধবার ভোররাতে পুরনো দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে একটি মসজিদের আশেপাশে দখল করে থাকা এলাকায় অভিযান শুরু হয়। যার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮টায় এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে এর পরিবর্তে ভোররাত দেড়টায় শুরু হয় সেই অভিযান। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। কিন্তু কেন এই অভিযান? কী নিয়ে বিতর্ক?

পুরনো দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে একটি মসজিদের আশেপাশে দখল করে থাকা এলাকায় অভিযান শুরু হয় বুধবার ভোররাতে (PTI)
পুরনো দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে একটি মসজিদের আশেপাশে দখল করে থাকা এলাকায় অভিযান শুরু হয় বুধবার ভোররাতে (PTI)

তুর্কমান গেট এলাকায় প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট জায়গা ‘অবৈধ দখল’-এর অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। হাই কোর্টের নির্দেশে ওই এলাকায় জরিপের কাজ শুরু হয়। সেই রিপোর্ট জমার পর আদালত অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেয়। এমসিডি একটি নির্দেশে বলে, ফয়েজ-এ-ইলাহি মসজিদটির ০.১৯৫ একর জমির বাইরে থাকা সমস্ত কাঠামো অবৈধ। সেই মত অভিযান শুরু হয় বুধবার ভোররাতে। সেই অভিযানের সময় মসজিদের কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এদিকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি। ওয়াকফ অ্যাক্ট অনুযায়ী এই ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তির একমাত্র কর্তৃপক্ষ হল ওয়াকফ ট্রাইবুনাল।

দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা এইচটিকে জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচ পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন স্থানীয়দের হামলায়। রামলীলা ময়দানে অবস্থিত মসজিদ এবং কবরস্থান সংলগ্ন জমি থেকে কথিত দখলদারি অপসারণের জন্য দিল্লি পৌর কর্পোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এমসিডির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মসজিদ সৈয়দ এলাহির ম্যানেজিং কমিটি মামলা দায়ের করেছিল দিল্লি হাইকোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়।

এই আবহে আজকের অভিযান নিয়ে দিল্লি পুলিশের যুগ্ম সিপি (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) মধুর ভার্মা বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে এমসিডি ৭ জানুয়ারি ভোরে দিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেটের ফৈজ-ই-এলাহি মসজিদের আশেপাশে দখল থাকা এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এই ধ্বংস কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ সুসংহত আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, 'পুরো এলাকাটিকে সাবধানতার সঙ্গে নয়টি জোনে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারকে। সমস্ত স্পর্শকাতর পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ এবং ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর ১০টিরও বেশি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছিল।'

তবে বুলডোজার দিয়ে অভিযান শুরু হতেই দখলদাররা বাধা দেওয়ার চেষ্টা দেয়। অভিযানে ৩২টি জেসিবি মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের ওপরে হামলা হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট ও পাথরের টুকরো। হামলায় একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, যে ২৫-৩০ জন লোক পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জন গ্রেফতার হয়েছে পুলিশে হামলা চালানোর অভিযোগে। দায়ের হয়েছে এফআইআর। চলছে তদন্ত, জেরা।