ইন্ডিগোর আকাশে বিপর্যয়! ৪ ‘ফ্লাইট ইন্সপেক্টর’কে বরখাস্ত করল DGCA, গাফিলতি...

আনুমানিক ২৫০০-রও বেশি বিমান বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। প্রতি বিমানে গড়ে ১৫০ জন করে যাত্রী ধরলে মোট ৩৭৬ কোটি টাকা দিতে হবে ইন্ডিগোকে।

Published on: Dec 12, 2025 1:54 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দেশজুড়ে লাগাতার বিমান বিভ্রাটের জেরে আরও বিপাকে পড়ল ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ। এবার ইন্ডিগো বিপর্যয়ে চার ‘ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর’কে বরখাস্ত করে দিল দেশের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ। এঁরাই ছিলেন দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন ইন্ডিগোর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড তদারকির দায়িত্বে। যদিও কেন তাঁদের সরানো হল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ জানায়নি ডিজিসিএ।

Passengers at the IndiGo counter in Lucknow Airport (HT_PRINT)
Passengers at the IndiGo counter in Lucknow Airport (HT_PRINT)

উড়ান নিয়ন্ত্রকের এই পদক্ষেপের দিনই ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবর্সকে দু’দিন ধরে টানা জেরা করতে ডেকেছে ডিজিসিএ-র চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। মূল উদ্দেশ্য, বিপর্যয় সামাল দিতে এয়ারলাইনের বর্তমান প্রস্তুতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা। সূত্রের খবর, এয়ারলাইনসের নজরদারি ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগেই ওই চার আধিকারিককে চাকরি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। যে চার ‘ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর’কে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ঋষি রাজ চ্যাটার্জি, সীমা জামনানি, অনিল কুমার পোখরিয়াল এবং প্রিয়ম কৌশিক। ডিজিসিএ ইতিমধ্যে গুরুগ্রামের অফিসে দুটি টিমও পাঠানো হয়েছে ইন্ডিগোর অপারেশন অর্থাৎ বিমানে ক্রু নিয়োগ ও রিফান্ড প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য। প্রতিদিন সন্ধে ৬টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। একটি টিম কতজন কর্মী কাজ করছেন, কতজন পাইলট রয়েছেন, কতজন ক্রু-র প্রশিক্ষণ চলছে, দৈনিক কত বিমান চলাচল হচ্ছে, এই সমস্ত খতিয়ান নেবে। আরেকটি টিম খতিয়ে দেখবে কেন ডিসেম্বরের শুরুতে ইন্ডিগোর বিমানে এত বড় বিপর্যয় হল। এর পাশাপাশি কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোকে সাময়িকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা ১০ শতাংশ কমাতে বলেছে, যাতে সংস্থা ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ডিসেম্বর ১,০০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিলের পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইন্ডিগো প্রায় ১,৯৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। সময়ানুবর্তিতা (ওটিপি), যা কয়েকদিন আগে একেবারে ৩০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, তা আবার ৯২ শতাংশের ওপরে উঠে এসেছে। ইন্ডিগোর দাবি, নতুন এফডিটিএল বিধির কারণে রস্টার তৈরি করতে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে সংকটকে বাড়িয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছিল, যাতে নতুন নিয়ম শিথিল করা হয়। আনুমানিক ২৫০০-রও বেশি বিমান বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। প্রতি বিমানে গড়ে ১৫০ জন করে যাত্রী ধরলে মোট ৩৭৬ কোটি টাকা দিতে হবে ইন্ডিগোকে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিমান বাতিল বা দীর্ঘক্ষণ দেরি হওয়ার জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এর উপরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকার ট্রাভেল ভাউচার দিচ্ছে ইন্ডিগো। ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বাতিল হওয়া বিমানের যাত্রীরাই এই ক্ষতিপূরণ পাবেন। ৬ ও ৭ ডিসেম্বরের যাত্রীরা এই ভাউচার পাবেন না। আগামী ১২ মাসের মধ্যে এই ভাউচার ব্যবহার করে নেওয়া যাবে।