Donald Trump on Iran Protest: ইরানের দিকে বিশাল মার্কিন বাহিনী, ৮৩৭ ফাঁসি বাতিলের কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের

আন্দোলনকারীদের এর আগেও 'সাহায্যের' বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দখলের জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীদের। এমনকী সামরিক পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু অবশ্য ট্রাম্প করেননি।

Published on: Jan 23, 2026 8:23 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বোর্ড অফ পিস প্রতিষ্ঠার পরই এবার যুদ্ধে নামবে আমেরিকা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায় পাওয়া গেল এমনই ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার তিনি বললেন, ইরানের দিকে একটি বড় বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে। বিগত কয়েক মাস ধরে ইরানে নাগরিক বিক্ষোভ জারি রয়েছে। ইসলামি শাসদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। ইরানি মোল্লাহদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ খুন হয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে আন্দোলনকারীদের এর আগেও 'সাহায্যের' বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি দখলের জন্য উস্কানি দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীদের। এমনকী সামরিক পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু অবশ্য ট্রাম্প করেননি। বরং উলটে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়েছেন তিনি। তবে এবার তিনি দাবি করলেন, ইরানের দিকে নাকি বড় বাহিনী যাচ্ছে।

ইরানে ৮৩৭টি মৃত্যুদণ্ড বাতিল করানোর কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের। (Getty Images via AFP)
ইরানে ৮৩৭টি মৃত্যুদণ্ড বাতিল করানোর কৃতিত্ব দাবি ট্রাম্পের। (Getty Images via AFP)

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে একটি বড় বহর মোতায়েন করেছে। তবে তিনি এও আশা করছেন যে এটি ব্যবহার করা হবে না। ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের একটি বড় বহর ইরানের দিকে যাচ্ছে এবং আমরা দেখব কী হয়। আমি চাই না কিছু (খারাপ) ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব নিবিড়ভাবে নজর রাখছি।' সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে এসেছেন। তবে সেই বিক্ষোভ কিছুটা কমেছে। এরই সঙ্গে ইরানি বাহিনীর নৃশংসতাও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সুর কিছুটা নরম হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবার গতকাল দাবি করেন, ওয়াশিংটনের চাপের কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি বৃহস্পতিবার ৮৩৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করেছি। তাঁদের হত্যা করা হত। তাঁদের প্রত্যেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হত। যাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই তরুণ। আমি ইরানকে বলেছিলাম, আপনারা যদি এই লোকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন, তবে আপনাকে আগের মতো আঘাত করা হবে।' ট্রাম্পের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি বাতিল করা হয়েছিল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএ) বলেছে যে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মৃত্যু নিশ্চিত করা গিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা শত শত নিরাপত্তা কর্মীসহ পাঁচ হাজারেরও বেশি লোকের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন।

তার আগে গত বুধবার দাভোসে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে ওয়াশিংটন এর জবাব দেবে। তিনি বলেন, 'তারা পরমাণু কর্মসূচি করতে পারে না। যদি তারা তা করে তবে একই পরিণতি (নিষেধাজ্ঞা / হামলা) পুনরায় ভোগ করতে হবে তাদের।' এরই মাঝে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলিতে একটি বিমানবাহী রণতরীর 'স্ট্রাইক গ্রুপ' এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার এবং যুদ্ধবিমান। গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে গেছে এই রণতরীগুলি।