Trump on Tariff: 'আমরা $#&* যাব', শুল্ক নিয়ে কান্নাকাটি শুরু ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'শুল্কের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলে আমেরিকা সরকারকে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। এরই সঙ্গে যদি বিনিয়োগের বিষয়টি যোগ করি, তাহলে এই লোকসান কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের হতে পারে।' ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক জাতীয় নিরাপত্তা 'বোনাঞ্জা'।

Published on: Jan 13, 2026 10:21 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তাঁর জারি করা শুল্ক বৈধ কি না, তা নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করতে চলেছে শীঘ্রই। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত যদি তাঁর শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে আমেরিকা 'স্ক্রুড' হয়ে যাবে। ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার লোকসান হবে আমেরিকার।

ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত যদি তাঁর শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে আমেরিকা 'স্ক্রুড' হয়ে যাবে। (AP)
ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত যদি তাঁর শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে আমেরিকা 'স্ক্রুড' হয়ে যাবে। (AP)

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'শুল্কের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলে আমেরিকা সরকারকে কয়েকশো বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। এরই সঙ্গে যদি বিনিয়োগের বিষয়টি যোগ করি, তাহলে এই লোকসান কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের হতে পারে।' ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক জাতীয় নিরাপত্তা 'বোনাঞ্জা'। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ভারতের ওপর আরও শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে 'জ্বালা ধরেছে' তাঁর মনে। এর আগে ট্রাম্প নিজে নিজেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভারত নাকি রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না। তবে তাঁর সেই ভিত্তিহীন ঘোষণা কার্যকর হয়নি। ভারত এখনও রাশিয়ার সাথে ব্যবস্থা করছে। এই আবহে এবার ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করার কথা বললেন ট্রাম্প। রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, এবং আমরা খুব দ্রুত তাদের উপর শুল্ক বাড়াতে পারি।'

ট্রাম্প মুখে দাবি করছেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এদিকে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই নিজের মনের মতো গল্প বানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি মোদীকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবং যুদ্ধ করলে বাণিজ্য চুক্তি না করা নিয়ে মোদীকে বার্তা দেওয়ার পর নাকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, 'না না বাণিজ্য চুক্তি তো করতে হবে'। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করে করেছিলাম। আমি দুই দেশকেই বলেছিলাম যে আমি প্রতিটি দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব... যার মানে তারা কখনও আর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। আমি শুল্কের কথা বলে শুধু ভালো ভাষায় বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমরা আপনার সাথে ব্যবসা করতে চাই না।'

ট্রাম্প একাধিকবার ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতিতে মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনাকে হাতিয়ার করে ভারত-পাক সংঘাত থামান তিনি। তবে নয়াদিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সংঝোতা দ্বিপক্ষীয়ভাবে হয়েছে। পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে হামলা ব্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন। এই আবহে ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। অন্যদিকে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল পাকিস্তান। তবে ভারত সেই সবে পাত্তা দেয়নি। এই সবের মাঝেই ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ট্রাম্প। মোদীকে একটা সময় ৪ বার ফোন করলেও মোদী কথা বলেননি ট্রাম্পের সঙ্গে। জি৭ সম্মেলনের সময় ফোনে কথোপকথন চলাকালীন ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি দাবির বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন মোদী। তবে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই যপ করার মতো একবার করে দাবি করে চলেন, তিনি ৭-৮টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ভারত-পাক যুদ্ধ। এবং তাতে নাকি তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার করেছেন। তবে সেই বাণিজ্য চুক্তি আজও সম্পন্ন হল না ভারত-আমেরিকার সঙ্গে।