Donald Trump's Message to Iran: 'সব সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করুন', ইরানিদের কাঁধে বন্দুক রেখে তেহরানকে হুমকি ট্রাম্পের

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

Published on: Jan 14, 2026 8:03 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই দেশে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরই মাঝে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেই এই সব মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। এদিকে সাহায্যের বার্তা দিলেও, কার্যত আন্দোলনকারী ইরানিদের কাঁধে বন্দুক রেখেই খামেনেইকে ভয় দেখাচ্ছেন ট্রাম্প।

ইরানি বিক্ষোভকারীদের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। (AP)
ইরানি বিক্ষোভকারীদের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। (AP)

এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছেন । এরই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি তথা পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার আলি লারিজানি কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্পের। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টে লারিজানি লেখেন, এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী। তিনি বলেন, 'আমরা ইরানি জনগণের প্রকৃত হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি। প্রথমজন ট্রাম্প এবং দ্বিতীয়জন নেতানিয়াহু।'

লারিজানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটিতে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ট্রুথ সোশ্যালে' একটি পোস্ট শেয়ার করে বলেন, 'ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ অব্যাহত রাখুন। আপনার প্রতিষ্ঠানগুলি দখল করুন! সাহায্য আসছে।' তবে কী ধরনের সহায়তা করা হবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানের সাথে কোনও স্তরের আলোচনা করবেন না।

ইরানে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি? মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মীর মতে, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০৩ জন লোক নিহত হয়েছে এই বিক্ষোভে। একই সময়ে, কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করে যে এই সংখ্যাটি ১২০০০ থেকে ২০০০০-এর মধ্যে হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে, দেশটিতে অনেকে প্রাণ হারিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলনে নেমেছেন ইরানের জনগণ। মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির অবনতির ইস্যুতে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। রাজধানী তেহরানসহ ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইরানি বাহিনীকে বহু জায়গায় তাড়া করছে সাধারণ মানুষ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে জনরোষ ইরানের পথেঘাটে দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় আন্দোলন সেই দেশে। তবে তেহরান বলছে, এর পেছনে রয়েছে আমেরিকা। অনেক জায়গায় নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পহলভির নামে স্লোগানও দিচ্ছেন মানুষ। এর আগে ১৯৭৯ ইসলামি বিপ্লবের সময় তৎকালীন রাজা তথা রেজার বাবা ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এদিকে এই সবের মাঝেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।