Europe on Greenland & Trump: গ্রিনল্যান্ড চেয়ে ফের আবদার ট্রাম্পের, সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ভাবনা ইউরোপের
ইউরোপ ও নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) আর্কটিকের নিরাপত্তার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বার্তা দিতে চাইছে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলি।
গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপের একাধিক দেশ। এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেন ও জার্মানি। ইউরোপ ও নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) আর্কটিকের নিরাপত্তার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বার্তা দেওয়াই এই গ্রুপের উদ্দেশ্য। সূত্র উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গ এক রিপোর্টে লিখেছে, আর্কটিক অঞ্চল রক্ষায় ন্যাটো মিশনের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে জার্মানি। বাল্টিক সাগরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলি রক্ষা করার জন্য চালু করা বাল্টিক সেন্ট্রি মিশনের আদলে মিশনটির নামকরণ করা হতে পারে আর্কটিক সেন্ট্রি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার আর্কটিক অঞ্চলে তাদের নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, স্টারমার চাইছেন, নরমে-গরমে ট্রাম্পকে নিজেদের দিকেই রাখতে। আমেরিকার বিরুদ্ধে সংঘাতে যেতে চাইছেন না তিনি। এর আগে বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র। আর এরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আরও বেশি আগ্রাসী বক্তব্য শোনা যায়। এমনকী গ্রিনল্যান্ড দখল করতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। অন্যদিকে ডেনমার্ক এখনও আশা করছে, আসন্ন ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সফর ট্রাম্পের অবস্থানকে নরম করবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী লার্স লোক রাসমুসেন এবং ভিভিয়ান মোটজফেল্ড অবশ্য স্পষ্ট করেছে, আমেরিকা গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে পারে না, তা সে যতই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার হুমকি থাকুক না কেন।
এই আবহে ১১ জানুয়ারি রাতে ট্রাম্প ফের একবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিক হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তার সামরিক ঘাঁটিতে বাহিনী বাড়াতে পারে। তবে তাঁর কথায়, 'গ্রিনল্যান্ডের প্রকৃত মালিকানা প্রয়োজন'। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা না পায়, তাহলে রাশিয়া বা চিন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে জার্মান বিদেশমন্ত্রী জোহান ওয়েদেফুল চলতি সপ্তাহে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করবেন। গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতায় ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। এদিকে বেলজিয়ান বিদেশমন্ত্রী থিও ফ্র্যাঙ্কেন আবার দাবি করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার নিরাপত্তা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর অভিযান চালানো উচিত। তিনি বলেন, 'আমাদের বন্ধুদের মতো আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।'
E-Paper











