IndiGo-র বিশৃঙ্খলার আসল কারণ কী? বিমানকর্মীদের বিস্ফোরক খোলা চিঠি, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের
বিগত কয়েকদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ২,৩০০ টি ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইন্ডিগোর পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত।
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোতে এখন চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। কার্যত ধসে পড়ে ওই সংস্থার পরিষেবা। শুক্রবারও দেশের প্রায় সমস্ত প্রান্তের সব অন্তর্দেশীয় বিমান বাতিল করেছে ইন্ডিগো। গত চার দিন ধরে চলতে থাকা জটিলতার জন্য পরোক্ষ ভাবে কর্মীদের উপরেই দায় চাপিয়েছে সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিগো-র কর্মীদের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ইন্ডিগোর চারদিনের ভয়াবহ ‘মেল্টডাউন’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিকে, ইন্ডিগোর তরফে জানানো হয়েছে ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। সিইও পিটার এলবার্স একথা জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, ইন্ডিগো-র পাইলট থেকে শুরু করে বিমানকর্মী, কেবিন ক্রু এবং গ্রাউন্ড স্টাফদের পক্ষ থেকে এই খোলা চিঠি লেখা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই চিঠি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও চিঠিটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে ইন্ডিগো-র কর্মীদের। সাধারণ মানুষ কর্মীদের উপরেই তাঁদের রাগ উগড়ে দিচ্ছেন, কর্মীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। যদিও এই সময়ে কৌশলগত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ইন্ডিগো কর্মীদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ডিজিসিএ বিমানসংস্থাগুলির জন্য যে কঠোর গাইডলাইন বলবৎ করেছে, সেগুলি শিথিল করার জন্য পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতেই ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ বিমান বাতিলের এই কৌশল নিয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ঠিক যে সময়ে ডিজিসিএ-এর নতুন বিধিনিষেধ বলবৎ হওয়ার কথা, ঠিক তখনই এই ব্যাপক হারে বিমান বাতিলের ঘটনা ঘটল। ফলে আসলে কী ঘটছে, তা সবার কাছেই স্পষ্ট।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংস্থার পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ব্যর্থতা রয়েছে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে আরও বাড়তে দেওয়া হয়েছে। যাতে সরকারের উপরে এই নতুন গাইডলাইন কার্যকর করার সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য চাপ দেওয়া যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে হোক অথবা অন্য কারণে, এই টানাপোড়েনের মাঝে সামনে থেকে কাজ করা কর্মীদের ফেলে দিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হল। ইন্ডিগো-র কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ‘আমরা ডিউটি রোস্টার ডিজাইন করিনি। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করিনি। আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তাতে বাধা দিইনি। তা সত্ত্বেও জনতার রোষ পড়ছে আমাদের উপরেই। এই পরিস্থিতির জন্য ইন্ডিগো-র শীর্ষ স্তরের যাঁরাই দায়ী, তাঁদের জনসমক্ষে এসে দায় নিতে হবে বলে দাবি করেছেন ইন্ডিগো-র এই কর্মীরা। সামনের সারিতে থাকা কর্মীদের জনতার রোষ থেকে রক্ষা করতে হবে। বিগত কয়েকদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ২,৩০০ টি ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইন্ডিগোর পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত। গত চার দিনে কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু-সহ দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরেই বাতিল হয়েছে উড়ান। এর জেরে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রীরা।
ইন্ডিগো-র বক্তব্য ও কেন্দ্রের নির্দেশ
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স বৃহস্পতিবার স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক ফ্লাইট বিলম্ব এবং বাতিলকরণের সময় গ্রাহক এবং কর্মী উভয়েরই অসুবিধা হয়েছে। কর্মীদের কাছে একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে তিনি স্বীকার করেছেন যে বিমান সংস্থাটি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। এলবার্স বলেন, 'আমাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হল অপারেশন স্বাভাবিক করা, আগামী দিনগুলিতে সময়ানুবর্তিতাকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, যা সহজ কাজ নয়। আমাদের সকলের একত্রিত হওয়ার এবং আবারও আমাদের দক্ষতা প্রমাণ করার সময় এসেছে।' অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিগোর ‘মেল্টডাউন’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'ভারত সরকার এই বিশৃঙ্খলা বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তদন্ত ইন্ডিগোর কী ভুল হয়েছে তা পর্যালোচনা করবে, যথাযথ পদক্ষেপের জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে জবাব তলব করবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে, যাতে যাত্রীরা ফের এই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হন।'
এফডিটিএল
দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোতে নজিরবিহীন ‘অপারেশনাল সংকট’ সামাল দিতে শুক্রবার তড়িঘড়ি ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ (এফডিটিএল)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিরেক্টরেট-জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন। এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, 'অপারেশনাল বিঘ্ন এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স থেকে আসা স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিয়মটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।' যে অংশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা হল, সাপ্তাহিক বিশ্রামের পরিবর্তে কোনও ছুটি প্রতিস্থাপিত হবে না। এই সংশোধনের অর্থ হল, এখন থেকে কোনও পাইলট যদি ৪৮ ঘণ্টার জন্য অর্জিত ছুটি নেন, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘সাপ্তাহিক বিশ্রাম’ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো সহজেই পাইলটদের রোস্টারে সাপ্তাহিক বিশ্রাম এবং ছুটির মধ্যেকার পার্থক্য দূর করতে পারবে। নতুন এফডিটিএল নিয়মের প্রথম ধাপ চালু হয়েছিল ১ জুলাই এবং দ্বিতীয় ধাপ ১ নভেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী, বেড়েছিল পাইলটদের বিশ্রাম - ৭ দিনের মধ্যে ৩৬ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা। কিন্তু এই বিধানেই বিপাকে পড়ে ইন্ডিগো, যার ফলে গত কয়েকদিন ধরে গোটা সেক্টরে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।












