Terrorism in J&K: পাক জঙ্গি শিবির লস্কর, হিজবুলের সঙ্গে যোগ! ৫ সরকারি স্টাফ প্রশাসনের কোপে, কার কী দায়িত্ব ছিল?
যে ৫ জনের নাম উঠছে। তারা জঙ্গি শিবিরের হয়ে কে কোন কাজ করেছে?
ভূস্বর্গের বুকে ৫ সরকারি স্টাফকে এদিন ছাঁটাই করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের লেফ্টন্যান্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার তরফে। জম্মু কাশ্মীরের সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাকিস্তানি জঙ্গি শিবিরগুলি জাল বিছাতে শুরু করছিল বলে খবর। সেই সূত্র ধরেই এওক শিক্ষক সহ ৫ সরকারি স্টাফকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার মতো পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, যে ৫ সরকারি স্টাফকে চাকরি থেকে সরানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি শিবির লস্কর-ই-তৈবা ও হিজবুল মুজাহিদ্দিনের যোগ রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, যে ৫ জনকে ঘিরে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারা জঙ্গিদের হয়ে একাধিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে ভূস্বর্গে। অভিযোগ, তারা নিজেদের সরকারি পদকে ব্যবহার করে জনতার আস্থাভাজন হয়ে, জঙ্গিদের জন্য নিয়োগ, টাকা জোগাড়, পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার কাজ চালাত।
যে ৫ জন চাকরিচ্যুত হয়েছে, জঙ্গিযোগের জেরে, তাদের মধ্যে মহম্মদ ইশফাক অন্যতম। রেহবার-ই-তালিম পদে নিযুক্ত এবং পরবর্তীতে ২০১৩ সালে শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত হয়ে ওঠা মহম্মদ ইশফাক পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার হয়ে কাজ করত, বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে,সে পাকিস্তান থেকে কর্মরত একজন মনোনীত সন্ত্রাসী লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার মহম্মদ আমিন ওরফে আবু খুবাইবের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি প্রকাশ করেছে যে, ইশফাককে ২০২২ সালের গোড়ার দিকে ডোডায় একজন পুলিশ অফিসারকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পাক জঙ্গি শিবিরগুলির তরফে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তালিকায় দ্বিতীয় নাম তারেক আহমেদ শাহ। ২০০৫ সালে হিজবুল মুজাহিদিনের সিনিয়র কমান্ডার আমিন বাবা ওরফে আবিদের পাকিস্তানে পালানোর ঘটনায় রাজ্য তদন্ত সংস্থার (এসআইএ) তদন্তের সময় অনন্তনাগের সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল বিজবেহেরায় নিযুক্ত ল্যাব টেকনিশিয়ান তারিক আহমেদ শাহের বিরুদ্ধে তাবড় অভিযোগ ওঠে। তদন্তে জানা গেছে যে তারেক, সন্ত্রাসীর অনন্তনাগে থাকার ব্যবস্থা করেছিল এবং পরে তাকে আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিল, যার ফলে তাকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশের সুযোগও করে দেয়। গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায় যে আমিন বাবা বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে।
এর পরের নাম বশির আহমেদ। ভূস্বর্গের পিএইচই বিভাগের সহকারী লাইনম্যান বশির আহমেদ মীরকে বান্দিপোরার গুরেজ সেক্টরে লস্কর-ই-তৈবার একজন সক্রিয় ওজিডব্লিউ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে লুকিয়ে আছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময়, তার বাড়ির ভেতরে দুই লস্কর-ই-তৈবা সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করা হয় এবং AK-47 রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বশির সন্ত্রাসীদের চলাচলে সহায়তা করছিল।
তালিকায় নাম রয়েছে ফারুক ভাটের। বন বিভাগের একজন মাঠকর্মী ফারুক আহমেদ ভাট হিজবুল-মুজাহিদিন কর্মীদের সহায়তা করে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে সেনিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে, তার সরকারী পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএম কমান্ডার আমিন বাবার পলায়নে ভূমিকা পালন করে। ২০২৪ সালে ফারুক গ্রেফতার হলেও, পরে জামিন পায়। নিজের সন্ত্রাসী কাজ চালিয়ে যায়।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের একজন ড্রাইভার মহম্মদ ইউসুফকে এইচএম কর্মীদের জন্য অস্ত্র ও তহবিল চলাচলের সাথে সরাসরি জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, পুলিশ ইউসুফকে বহনকারী একটি গাড়ি আটক করে এবং একটি পিস্তল, গুলি, একটি গ্রেনেড এবং নগদ ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে।
E-Paper











