'আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের...,' গণছাঁটাই নিয়ে ক্ষোভের মুখে ইস্তফা ওয়াশিংটন পোস্ট CEO-র

২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট কেনা জেফ বেজোস নেতৃত্ব পরিবর্তনকে সংবাদপত্রের জন্য একটি ‘অসাধারণ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Published on: Feb 08, 2026 8:40 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কয়েকদিন আগেই সংবাদমাধ্যম জগতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সংবাদসংস্থা ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এ ৩০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যম এবং পেশাজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই আবহে শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টের পাবলিশার ও সিইও উইল লুইস পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট CEO-র ইস্তফা (সৌজন্যে টুইটার)
ওয়াশিংটন পোস্ট CEO-র ইস্তফা (সৌজন্যে টুইটার)

ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করে সংস্থার কর্মীদের উদ্দেশে দু’পাতার একটি ই-মেল পাঠিয়েছেন উইল লুইস। তিনি লিখেছেন, 'আমার দায়িত্বকালে দ্য পোস্টের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যাতে আগামী বহু বছর ধরে আমরা প্রতিদিন লক্ষাধিক পাঠকের কাছে উচ্চমানের, নিরপেক্ষ সংবাদ পৌঁছে দিতে পারি।' দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হোয়াইট হাউস ব্যুরো চিফ ম্যাট ভাইসার ওই বার্তাটি অনলাইনে শেয়ার করেছেন। এর আগে উইল লুইস ডাও জোন্স-এর সিইও ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশক ছিলেন। ২০২৩ সালে যখন ওয়াশিংটন পোস্ট তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে, তখনই তাঁকে এই পদে নিয়োগ করা হয়। তিনি প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করা ফ্রেড রায়ানের স্থলাভিষিক্ত হন।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন পোস্টে চিফ ফাইনানসিয়াল অফিসার জেফ ডি’অনোফ্রিও অন্তর্বর্তীকালীন প্রকাশক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে। ডি’অনোফ্রিও গত বছরের জুন মাসে এই সংস্থায় যোগ দেন। এর আগে তিনি গুগল, ইয়াহু-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। শনিবার কর্মীদের পাঠানো এক ইমেলে তিনি লিখেছেন, 'গ্রাহকদের তথ্যই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ দেখাবে এবং আমাদের পাঠকদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়গুলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতাকে আরও ধারালো করবে।' অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলো বলেছে, উইল লুইসের বিদায় ছিল অপরিহার্য। এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট গিল্ড জানায়, 'উইল লুইসের পদত্যাগ অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তাঁর লিগ্যাসি একটি মহান আমেরিকান মিডিয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চেষ্টা। তবে এখনও দ্য পোস্টকে বাঁচানোর সময় আছে। জেফ বেজোসকে অবিলম্বে এই ছাঁটাই বাতিল করতে হবে, অথবা পত্রিকাটি এমন কারও কাছে বিক্রি করতে হবে, যিনি এর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।'

২০১৩ সালে ওয়াশিংটন পোস্ট কেনা জেফ বেজোস নেতৃত্ব পরিবর্তনকে পত্রিকার জন্য একটি ‘অসাধারণ সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পোস্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী বেজোস বলেন, 'দ্য পোস্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিশন রয়েছে। সামনে রয়েছে এক অসাধারণ সুযোগ। প্রতিদিন আমাদের পাঠকরাই আমাদের সাফল্যের রোডম্যাপ দেখিয়ে দেন।' উইল লুইসের পদত্যাগ আসে এমন এক সময়ে, যখন পত্রিকাটি সম্প্রতি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সংবাদপত্রটির সব বিভাগকে প্রভাবিত করেছে। বুধবার ছাঁটাইয়ের হওয়ার সময় লুইসের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রাক্তন নির্বাহী সম্পাদক মার্টি ব্যারন এই দিনটিকে সংবাদপত্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন। ওয়াশিংটন পোস্টে থাকাকালীন উইল লুইস একাধিক দফা কর্মী ছাঁটাই তদারকি করেন। এ সময় পত্রিকাটি লক্ষাধিক গ্রাহক হারায়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন বন্ধ করা, মতামত বিভাগে তুলনামূলকভাবে উদারপন্থি ঝোঁক বাড়ানো, এসব সিদ্ধান্তের পর পাঠক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে গ্রাহক হারানোর আগেও লুইসের সময়কাল ছিল অস্থির।

২০২৪ সালে তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক স্যালি বাজবি’র সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লুইসের প্রাক্তন সহকর্মী রবার্ট উইনেট’কে নিয়োগের চেষ্টা নিয়ে নিউজরুমে তীব্র প্রতিবাদ হয়। উইনেট একটি ফোন-হ্যাকিং কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে লুইসের নামও আলোচনায় আসে।