'১০ মিনিটে ডেলিভারি' আর নয়! কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে নিয়ম বদল ব্লিঙ্কিটের, পিছু হটছে...

এই সিদ্ধান্ত করা হল এমন সময় যখন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কর্মরত গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকে।

Published on: Jan 13, 2026 4:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

‘কুইক কমার্স’ প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে '১০ মিনিটে ডেলিভারি' ছিল ব্লিঙ্কিটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড-পরিচয়। অবশেষে ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, সুইগি, জোম্যাটোর মতো ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে সেই ১০ মিনিটের ডেলিভারি দেওয়ার নিয়ম বন্ধ করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর নেতৃত্বে চলা আলোচনার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

'১০ মিনিটে ডেলিভারি' আর নয়!
'১০ মিনিটে ডেলিভারি' আর নয়!

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ব্লিঙ্কিট তাদের সব ধরনের প্রচার থেকে '১০ মিনিটে ডেলিভারি'-এই কথাটি সরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন, প্রচার বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, কোথাও আর এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হবে না। বাকি অ্যাপগুলিও এই অপশন তুলে নিতে চলেছে। তবে এর অর্থ ডেলিভারির সময় বাড়বে এমন নয়। বরং নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার প্রচার ব্যবস্থাটিকেই বন্ধ করতে চায় সংস্থা, যাতে ডেলিভারি পার্টনারদের উপর ঝুঁকিপূর্ণ গতির চাপ না পড়ে। এই সিদ্ধান্ত করা হল এমন সময় যখন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কর্মরত গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা দেশজুড়ে ধর্মঘট ডাকে। তারা অভিযোগ তোলেন সুরক্ষাহীন কাজের পরিবেশ, সময়ের চাপ, উপার্জন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা না পাওয়ার বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের তরফে শ্রম মন্ত্রকের কাছে অভিযোগ পৌঁছয় এবং বিষয়টি সরকারি স্তরে গুরুত্ব পায়।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি ও কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় মন্ত্রী কোম্পানিগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাদের ব্র্যান্ডিং বা প্রচারের কাজে যেন নির্দিষ্ট কোনও 'ডেলিভারি টাইম লিমিট' ব্যবহার না করা হয়। ব্র্যান্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি থাকলে তা ডেলিভারি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও কোম্পানিগুলি দাবি করে থাকে যে দ্রুত ডেলিভারি ‘স্পিড ড্রাইভিং’-এর উপর নির্ভর করে না, বরং গোডাউন ও ডার্ক স্টোরের কাছাকাছি ডেলিভারি নেটওয়ার্কের ডিজাইনের ফলে সময় কম লাগে। তবুও শ্রম মন্ত্রকের মতে, এমন প্রতিশ্রুতি বিপজ্জনক মানসিকতার হার বাড়াতে পারে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শেষে সব কোম্পানি সরকারকে আশ্বস্ত করে যে তারা বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন সময়-নির্ভর বার্তা তুলে দেবে না।

দেশজুড়ে ধর্মঘট

গত ২৫ এবং ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। যদিও নতুন বছরের আগের রাতেও বহু শহরে ডেলিভারি স্বাভাবিক গতিতে চলেছে বলে দেখা যায়, তবুও এই প্রতিবাদ জনমতকে বিষয়টির দিকে টেনে আনে। এর ফলেই সরকার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। গিগ কর্মীদের প্রধান দাবি ছিল, প্ল্যাটফর্মগুলি দ্রুত ডেলিভারির নামে উপার্জন কমাচ্ছে, রুট পরিবর্তন করছে, কাজের চাপ বাড়াচ্ছে এবং কোনও সামাজিক সুরক্ষা বা বিমা সুবিধা পর্যাপ্তভাবে দিচ্ছে না। জোম্যাটো সিইও দীপিন্দর গোয়েল-সহ অন্যান্যরা দাবি করেছিলেন যে, দ্রুত ডেলিভারি মানেই দ্রুত গাড়ি চালানো নয়; বরং এটি তাদের উন্নত সিস্টেমের কারসাজি। তাঁরা আরও বলেছিলেন যে, ডেলিভারি পার্টনাররা বিমার আওতাভুক্ত। তবে সরকারের হস্তক্ষেপের পর কোম্পানিগুলি এখন অনেক বেশি সতর্ক। ১০ মিনিটে যে গ্যারান্টি তারা দিত, সেখান থেকে তারা সরে আসছে।