'এটাই স্ট্যাটাস!' বিতর্কের কেন্দ্রে ‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি', নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান
এই বিতর্ক কেবল আইনি গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে সংসদ ভবনেও।
ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি’ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য এবার এক ভিন্ন মাত্রা নিল। এবার খোদ জেনারেল নারাভানে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বইটির কোনও অনুমোদিত কপি বাজারে আসেনি। একই সঙ্গে ওই অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার প্রকাশক পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতিটি ফের শেয়ার করে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান।

তদন্ত ও আইনি জটিলতা
বর্তমানে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের 'অপ্রকাশিত' বই ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা। সোমবারই প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন সাফ জানিয়ে দেয় যে, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের আত্মজীবনী ‘ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি’-এর একমাত্র প্রকাশনা-অধিকার তাদের হাতেই এবং বইটি প্রকাশনার পর্যায়ে যায়নি। পেঙ্গুইন আরও জানায়, বইটির কোনও মুদ্রিত বা ডিজিটাল কপি তারা প্রকাশ, বিতরণ বা বিক্রি করেনি। ফলে, বইয়ের পুরো বা আংশিক কপি যেখানেই ঘুরুক না কেন, তা স্পষ্ট কপিরাইট লঙ্ঘন। অননুমোদিত প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানায় তারা। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রকাশিত বইয়ের পিডিএফ ঘোরাফেরার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। কীভাবে একটি অপ্রকাশিত বই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর হাতে পৌঁছল, এই প্রশ্ন সামনে আসার পরেই পুলিশি পদক্ষেপ ও পেঙ্গুইনের স্পষ্টীকরণ সামনে আসে।
কী বলছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান?
এই আবহে মঙ্গলবার একটি এক্স পোস্ট করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার পোস্টকে সমর্থন করে সেখানে তিনি দাবি করেছেন, বইটি কখনও প্রকাশিত হয়নি, এর কোনও অনুমোদিত অনুলিপি নেই। তাঁর কথায়, 'এটাই স্ট্যাটাস।' ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন এমএম নারাভানে। তাঁর ‘অপ্রকাশিত’ বইয়ের কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজিনে। যার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। মঙ্গলবারও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলে প্রকাশনা সংস্থা। একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’ বইটির প্রকাশনার অধিকার একমাত্র তাদেরই রয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশনা সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে বইটি এখনও প্রকাশের পর্যায়ে পৌঁছয়নি।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য
এই বিতর্ক কেবল আইনি গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে সংসদ ভবনেও। গত সপ্তাহে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদের বাইরে বইটির একটি কথিত কপি হাতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই শোরগোল শুরু হয়। এরপর লোকসভায় একাধিকবার হট্টগোল হয় এবং চলতি বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য আট সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। সূত্রের খবর ছিল, রাহুল একটি অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি পেয়েছেন, যার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং পরে বলেন, এমন কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই বইতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ট্যাঙ্ক নিয়ে কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছিল চিনের সেনা। সেনাপ্রধান তা জানানোর পরেও নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। নারাভানের 'অপ্রকাশিত' বই সম্পর্কে একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে রাহুল পড়া শুরু করলে স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভা কার্যবিধির ৩৪৯ (১) ধারা স্মরণ করিয়ে তাঁকে পড়া থেকে বিরত হতে বলেন। সোমবার রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ভীত’ বলেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাব দিতে লোকসভায় আসেননি। এই ‘লিক’ বা অনুমোদনহীন প্রচার খতিয়ে দেখতে স্পেশাল সেলে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কীভাবে অপ্রকাশিত পান্ডুলিপির অংশ প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েই এখন মূলত অনুসন্ধান চলছে।
E-Paper











