অপূর্ণ থেকে গেল স্বপ্ন! পুরনিগম কর্মীদের লাগাতার হেনস্থা, নির্মাণাধীন বাড়িতেই ইঞ্জিনিয়ার...

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরের কাছে ছিল ১০ পাতার একটি সুইসাইড নোট।

Published on: Dec 04, 2025 6:56 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বেঙ্গালুরুর নাল্লুরাহল্লি এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে প্রাক্তন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃতদেহ উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় পৌর সংস্থার দুই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের থেকে বেআইনি ভাবে টাকা তোলার চেষ্টা করছিলেন। নানা সময়ে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছিল ওই ইঞ্জিনিয়ারকে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে, ক্রমাগত হেনস্থার শিকার হওয়ার ফলে ওই যুবক আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন।

অপূর্ণ থেকে গেল স্বপ্ন! (সৌজন্যে টুইটার )
অপূর্ণ থেকে গেল স্বপ্ন! (সৌজন্যে টুইটার )

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের নাম মুরলী গোবিন্দরাজু (৪৫)। তিনি স্ত্রী দুর্গাদেবী এবং সন্তান দেশিতার সঙ্গে বসবাস করতেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজে বাড়ি তৈরির, যা বাস্তবায়িত করতে বেজায় সমস্যায় পড়েন মুরলী। শেষমেষ নাল্লুরাহল্লিতে ওই নির্মাণাধীন বাড়িতেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। মৃতের মায়ের অভিযোগ, ক্রমাগত তোলাবাজির হুমকি, দাবি মতো টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রবল হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়েছিল তাঁর ছেলেকে। গ্রেটার বেঙ্গালুরু কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন আধিকারিকও এর নেপথ্যে ছিলেন। নানা অছিলায় কপ্রোরেশন বাড়ি তৈরির কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে মুরলী গোবিন্দরাজুর মা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে নাল্লুরাহল্লিতে এক আত্মীয়ের কাছ থেকে তাঁর ছেলে একটি জমি কিনেছিলেন। ওই জমিতেই একটি বাড়ি তৈরির কাজ চলছিল।

বৃদ্ধার দাবি, গত ২৫ অক্টোবর, উষা নাম্বিয়ার এবং শশী নাম্বিয়ার নামে দুই ব্যক্তি মুরলীর সঙ্গে একাধিকবার (প্রায় ১০ থেকে ১৫ বার) দেখা করে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। সেই টাকা মুরলী দিতে অস্বীকার করেছিলেন। এরপর ঊষা ও শশী, গ্রেটার বেঙ্গালুরু কর্পোরেশনের কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে যোগসাজশ করেন। নানা কথা বলে কর্পোরেশনের লোকেরা বারবার বাড়ি তৈরির কাজে ব্যাঘাত ঘটান। এতেই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন মুরলী গোবিন্দরাজু। মায়ের আরও অভিযোগ, ঘটনার দিন ফের ঊষা ও শশী মুরালির কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মুরলী। শেষ পর্যন্ত ভোর ৬টা নাগাদ মুরলী তাঁর নির্মীয়মাণ বাড়িতে যান। সেখানে সিলিং ফ্যানের জন্য তৈরি লোহার হুকে ঝুলে পড়েন। পরে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ কাঠমিস্ত্রি গণেশ কাজে এলে মরুলীর ঝুলন্ত দেহটি দেখে পরিবারে খবর দেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরের কাছে ছিল ১০ পাতার একটি সুইসাইড নোট। ইতিমধ্যে মৃতের মা, ঊষা এবং শশীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে হেনস্থা এবং ছেলের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।