দীর্ঘ ১৫ বছর নিখোঁজ! সোশ্যাল মিডিয়ায় মিলল দেখা, মরুরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরলেন...
খুব কম বয়সেই পরিবারের অভাব মেটাতে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন সেনা বলদেব কুমার। কিন্তু আর বাড়ি ফিরে আসেননি।
দীর্ঘ ১৫ বছর নিখোঁজ ছিল বাড়ির ছেলে। এক সময় সকলে ভেবেই নিয়েছিলেন 'সে আর নেই।' অনেকটা ফিল্মি কায়দায় সেই 'ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল।' খুব কম বয়সেই পরিবারের অভাব মেটাতে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন প্রাক্তন সেনা বলদেব কুমার। কিন্তু আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি, ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। এক সময় পরিবারের সদস্যরা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে ধরেই নেন যে বলদেব কুমার হয়তো আর জীবিত নেই। কিন্তু ১৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর সেই বলদেব ফিরে এসেছেন হিমাচল প্রদেশে তাঁর পৈতৃক ভিটেতে। আর এর নেপথ্যে রয়েছে একটি ভিডিও।

জানা গেছে, তিন দিন আগে রাজস্থানের বিকানেরের এক পরিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির একটি ভিডিও পোস্ট করেছিল। আর সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিওটি সুজনপুর জেলার ঘারথোলি গ্রামের স্বপ্না কুমারীর হাতে পৌঁছয়। এরপরেই তিনি ভিডিওটি শেয়ার করেন। এরপরেই বলদেব কুমারের ভিডিওটি তাঁর পরিবারের চোখে পড়ে। দীর্ঘ ১৫ বছর ঘরের ছেলেকে ভিডিওতে দেখে হতবাক হয়ে যান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তারপরেই তাঁরা নিশ্চিত করেন যে বলদেব কুমারই তাঁদের হারিয়ে যাওয়া ঘরের ছেলে। তড়িঘড়ি বলদেবের সঙ্গে দেখা করতে রাজস্থানে পৌঁছয় তাঁর পরিবার। এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলদেব কুমারকে হিমাচলের পৈতৃক ভিটেতে নিয়ে আসন। বলদেবের বাড়ি ফেরার খবর পেয়েই আনন্দে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতেই বাজি ফাটিয়ে উদযাপন করা হয়। বলদেবের পরিবার স্বপ্না কুমারী, গৌরব জৈনকে ঘরের ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ১৫ বছরের একটি ক্ষত সারিয়ে দিয়েছে এবং তাঁদের হারানো ছেলেকে ঘরে ফিরে এসেছে।
তবে এই ঘটনা প্রথম নয়। চলতি বছরই উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার আতামাউ থেকে এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় আট বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন জিতেন্দ্র ওরফে বাবলু। ২০১৮ সালে আচমকাই গায়েব হয়ে যান। তাঁর স্ত্রী শীলু সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল হয়। শীলুর পরিবার তাঁদের ছেলের ক্ষতি করে থাকবে বলে অভিযোগও তোলেন জিতেন্দ্রর বাড়ির লোকজন। যদিও শীলুর দাবি ছিল, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই অশান্তি শুরু হয় তাঁদের মধ্যে। পণের জন্য তাঁকে হেনস্থা করা হতো। সেই নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন শীলুর বাপের বাড়ির লোকজন। সেই নিয়ে তদন্ত চলাকালীনই হঠাৎ গায়েব হয়ে যান জিতেন্দ্র। ছেলে নিখোঁজ বলে ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল অভিযোগও দায়ের করেন তাঁর বাবা। সেই সময় জিতেন্দ্রর খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু জিতেন্দ্র সম্পর্কে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের রিলে জিতেন্দ্রকে দেখতে পান শীলু। অন্য এক মহিলার সঙ্গে জিতেন্দ্রকে দেখে চিনতে পারেন তিনি। সেই মতো পুলিশে খবর দেন। আর তাতেই, আট বছর পর জিতেন্দ্রর নাগাল পেতে সফল হয় পুলিশ।












